ফল জাতীয় ফসল চাষ কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM -
আঁশফল চাষ পদ্ধতি

আঁশফল চাষ পদ্ধতি

নাম : আঁশফল

আঁশ ফল দেখতে অনেকটা লিচুর মতো। কিন্তু লিচুর চেয়ে বেশ ছোট। আকারে ছোট হলেও এ ফল খেতে বেশ মিষ্টি লাগে। আঁশ ফলের শাঁস সাদা, কচকচে যা কালো বীজকে ঢেকে রাখে।

আঁশ ফল চাষের প্রয়োজনীয় মাটি

আমাদের দেশে প্রায় সব ধরনের মাটিতেই আঁশ ফল চাষ করা যায়। তবে উর্বর সুনিষ্কাশিত গভীর দোঁআশ মাটি আশফল চাষের জন্য খুবই ভাল। এ গাছ জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা মোটেই সহ্য করতে পারে না। ফল ধারণ থেকে ফলের পরিপক্বতা পর্যন্ত মাটিতে প্রচুর আর্দ্রতা প্রয়োজন।

আঁশ ফল চাষের উপযুক্ত জাত

আমাদের দেশে কয়েকটি জাতের মধ্যে সাধারণত দুটি ধরণের জাতের চাষ বেশি হয়। এ জাত দুটি প্রতি বছরই নিয়মিত ফল দেয়।

বারি আঁশফল-১

এটি একটি উচ্চফলনশীল ও নিয়মিত ফল প্রদানকারী জাত। গাছ খাটো, ছড়ানো ও অত্যধিক ঝোপালো। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে গাছে ফুল আসে এবং শ্রাবণ মাসের শেষার্ধে ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। ফল ছোট, গোলাকার, বাদামি রঙের, শাঁস সাদা কচকচে এবং খুব মিষ্টি। জাতটি বাংলাদেশের সব এলাকায় চাষ করা যায়।

বারি আঁশফল-২

এটিও একটি উচ্চফলনশীল ও নিয়মিত ফলদানকারী জাত। গাছ খাটো, ছড়ানো ও অত্যধিক ঝোপালো। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে গাছে ফুল ধরে এবং শ্রাবণ মাসের শেষার্ধে ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। ফল তুলনামূলক বড়, বাদামি রঙের, শাঁস সাদা, কচকচে এবং খুব মিষ্টি। বীজ খুব ছোট, খোসা পাতলা, বাংলাদেশের সব এলাকায় চাষ করা যায়।

চারা বা কলম নির্বাচন

এক বছর বয়স্ক সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত কলমের চারা নির্বাচন করতে হবে।

রোপণ পদ্ধতি

সমতল ভূমিতে বর্গাকার বা আয়তাকার পদ্ধতিতে চারা রোপণ করা যায়।

রোপণের সময়

জৈষ্ঠ্য-আষাঢ় এবং ভাদ্র-আশ্বিন মাস হলো আঁশফলের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে পানি সেচের সুব্যবস্থা থাকলে সারা বছরই আঁশফলের চারা কলম রোপণ করা যায়।

গর্ত তৈরি

চারা রোপণের ১৫ থেকে ২০ দিন আগে পরিমাণ মতো গর্ত তৈরি করতে হবে। গর্তের উপরের মাটির সঙ্গে ১৫ থেকে ২০ কেজি জৈব সার, ২৫০ গ্রাম টিএসপি ও ২৫০ গ্রাম এমওপি সার ভালোভাবে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করে তাতে পানি দিতে হবে।

চারা বা কলম রোপণ

গর্তে সার প্রয়োগের ১০ থেকে ১৫ দিন পর গর্তের মাঝখানে নির্বাচিত চারাটি খাড়াভাবে রোপণ করে চারার চারদিকের মাটি হাত দিয়ে চেপে ভালোভাবে বসিয়ে দিতে হবে।

আঁশ ফল চাষের পরিচর্যা

চারা রোপণের পর শক্ত খুঁটি পুঁতে খুঁটির সঙ্গে চারাটি বেঁধে দিতে হবে, যাতে বাতাসে চারার কোনো ক্ষতি না হয়। গরু-ছাগলের থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনে বেড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। চারা রোপণের পর পরই পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।

আঁশ ফল চাষের সার প্রয়োগ

আঁশফলে নিয়মিত সার প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। গাছের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সারের পরিমাণও বাড়াতে হবে। এক থেকে দুই বছর বয়সের একটি গাছে প্রতি বছর-

৫ থেকে ১০ কেজি জৈব সার, ২০০ গ্রাম ইউরিয়া, ১৫০ গ্রাম টিএসপি, ১৫০ গ্রাম এমওপি ও ৫০ গ্রাম জিপসাম, ৩ থেকে ৪ বছর বয়সের একটি গাছে প্রতি বছর ১০ থেকে ১৫ কেজি জৈব সার, ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৪৫০ গ্রাম টিএসপি, ৩০০ গ্রাম এমওপি ও ১০০ গ্রাম জিপসাম, ৫ থেকে ৬ বছর বয়সের একটি গাছে প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০ কেজি জৈব সার, ৫০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৬০০ গ্রাম টিএসপি, ৪৫০ গ্রাম এমওপি ও ২০০ গ্রাম জিপসাম, ৭ থেকে ১০ বছর বয়সের একটি গাছে প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ কেজি জৈব সার, ৭৫০ গ্রাম ইউরিয়া, ৭৫০ গ্রাম টিএসপি, ৬০০ গ্রাম এমওপি ও ৩০০ গ্রাম জিপসাম, ১১ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের একটি গাছে ২৫ থেকে ৩০ কেজি জৈব সার ১ হাজার গ্রাম ইউরিয়া, ১ হাজার গ্রাম টিএসপি, ৭৫০ গ্রাম এমওপি এবং ৪০০ গ্রাম জিপসাম দিলে ভাল হয়। এ পরিমাণ সার তিন কিস্তিতে প্রয়োগ করত হবে। শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে ফল সংগ্রহের পর প্রথমবার, ফাল্গুন-চৈত্র মাসে মুকুল আসার পর দ্বিতীয়বার এবং জৈষ্ঠ্য-আষাঢ় মাসে বীজের রঙ ধারণ পর্যায়ে তৃতীয়বার সার প্রয়োগ করতে হবে।

পোকামাকড় ও রোগবালাই

আঁশফলে সচরাচর তেমন কোনো পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ দেখা যায় না। তবে ফলের পরিপক্ব পর্যায়ে ফিঙে, দোয়েল ও বাদুড় ফল খেয়ে প্রচুর পরিমাণ ফল নষ্ট করে থাকে। তাই প্রত্যেক গাছ আলাদাভাবে বা সম্পূর্ণ বাগানে নাইলন নেট দিয়ে ঘিরে ফল রক্ষা করা যেতে পারে।

কালো পিপঁড়া

এ ফল বেশি মিষ্টি, বিধায় গাছে থাকা অবস্থায় কালো পিঁপড়া বীজ ও খোসা বাদ দিয়ে ফলের সব শাঁস খেয়ে ফেলে।

দমন ব্যবস্থা

বাগানের আশপাশে পিঁপড়ার বাসা থাকলে তা ধ্বংস করে ফেলতে হবে। অথবা পিঁপড়া মারার কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।

ফল সংগ্রহ

সম্পূর্ণ পাকার পর ফল গাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। আবার বেশি পেকে গেলে গাছ থেকে ফল ঝরে পড়ে এবং ফেটে যায়। তাই সময়মতো ফল সংগ্রহ আঁশফল সংগ্রহ করতে হবে।

আমাদের দেশে অনেক অঞ্চলে আঁশ ফলের বাণিজ্যিক চাষ হয়ে থাকে। তাই সঠিক পরিচর্যা করলে অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব। এবং আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব।

    SUNDARBANFARM

    %d bloggers like this: