গাজর চাষ কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM -
গাজর চাষ পদ্ধতি

গাজর চাষ পদ্ধতি

গাজর আমাদের দেশে একটি জনপ্রিয় শীতকালীন সবজি। গাজর চাষ করে অনেকেই সাফলতা পেয়েছেন। গাজর সারা বছর হলেও অন্য সময়ের তুলনায় শীতে এর ফলন বেশি দেখা যায়। আমাদের দেশের প্রায় সব জায়গায় গাজর চাষ করা হয়। আসুন জেনে নেই গাজরের চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে-

উপযুক্ত মাটি ও জলবায়ুঃ


আমাদের দেশে গাজর চাষের জন্য দো-আঁশ বা বেলে দোঁআশ মাটি বেশি উপযোগী। গাজর চাষের জন্য আশ্বিন থেকে কার্তিক মাস বীজ বপনের উত্তম সময়। শীতকালীন আবহাওয়ায় গাজর ভালো ফলন দেয় এবং গাজর চাষের জন্য উঁচু ও ছায়ামুক্ত জমি নির্বাচন করা উত্তম।

গাজরের জাত নির্বাচনঃ


আমাদের দেশে সাধারণত দুই ধরণের গাজর চাষ করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে একটি হল গ্রীষ্মকালীন এবং অপরটি হল নাতিশীতোষ্ণ। গাজরের উল্লেখযোগ্য জাতগুলো হল- কুয়োদা চেনটিনি, কুয়োদা নিউ, চেনটিনি রেডকোর, কিনাকো ক্রস এফ-১, রয়েল ক্রস, সানটিনি ইত্যাদি।

জমি প্রস্তুতকরণঃ


  • যে জমিতে গাজর চাষ হবে সে জমি ৮-১০ ইঞ্চি গভীর করে চাষ দিতে হবে। কারণ গাজরের শেকড় মাটির বেশ ভেতরে প্রবেশ করে।
  • গাজর চাষ করার জন্য জমিতে ৪ থেকে ৫টি চাষ দিয়ে নিতে হবে এবং মই দিয়ে জমি ভালোভাবে তৈরি করতে হবে।
  • জমির ঢেলা ভেঙ্গে মাটি ঝরঝরে করে নিতে হবে।
  • গাজরের বীজ ৮-১০ ইঞ্চি দূরে দূরে সারি তৈরি করতে রোপণ করতে হবে।

বীজ বপন পদ্ধতিঃ


  • বীজ বপনের আগে জমিতে গাজরের বীজ একদিন ভিজিয়ে রাখতে হবে।
  • সাধারণত গাজরের বীজ আকারে খুব ছোট হয়। সে জন্য বীজ বপনের সময় বীজের সাথে ছাই বা মাটি মিশিয়ে নিতে হবে।
  • গাজরের বীজ সারিতে বপণ করলে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি দূরত্বে বীজ বপন করতে হবে।

সার ব্যবস্থাপনাঃ


ভালো ফলন পেতে হলে গাজর চাষের জমিতে যত সম্ভব বেশি করে জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। মাটিতে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ উভয়ই ভালো থাকবে। মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরণ অনুযায়ী জমিতে সার প্রয়োগ করলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়। হেক্টরপ্রতি গাজর চাষে নিম্নরূপ হারে সার প্রয়োগ করতে হবে-

  • গোবর/জৈবসার – ১০ টন
  • ইউরিয়া – ১৫০ কেজি
  • টিএসপি –  ১২৫ কেজি
  • এমপি/এসওপি – ২০০ কেজি

গাজরের পরিচর্যাঃ


গাজরের বীজ বপনের পর ক্ষেতে হালকা করে পানি দিতে হবে। সেচের কিছুদিন পর জমিতে নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হবে।  মনে রাখতে হবে ফসল তোলার সময় প্রয়োজনে আর একবার সেচ দিতে হবে। পানি জমলে ফসলের ক্ষতি হয় তাই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং আগাছা সময় মতো দমন করতে হবে।

পোকামাকড় ও রোগ বালাইঃ


হলুদ ভাইরাস রোগঃ অন্য ফসলের তুলনায় গাজরে রোগ বালাই ও পোকামাকড় কম দেখা যায়। তবে লীফ হপার পোকার মাধ্যমে গাজরে অনেক সময় হলুদ ভাইরাস রোগের প্রার্দুভাব দেখা যায়। এ পোকার আক্রমণের ফলে গাজরের ছোট বা কচি পাতাগুলো হলুদ হয় পরে কুঁকড়িয়ে যায়।

জাবপোকাঃ গাজর চাষের ক্ষেত্রে জাব পোকা একটি আতঙ্কের নাম। এই পোকা গাছের  পাতা ও কচি অংশের রস চুষে খেয়ে ফসলের ক্ষতি সাধন করে থাকে।

পচারোগঃ গাজরের মূল ও পাতার গোড়ায় ব্যাক্টেরিয়াজনিত পচন রোগ দেখা যায়।  নাইট্রোজেন সার অতিরিক্ত প্রয়োগে এ রোগ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

গাজরের রোগের প্রতিকারঃ


পোকামাকড় ও রোগ বালাই দমনে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা করা যেতে পারে। পোকা দমন না হলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

ফসল সংগ্রহঃ


গাজরের চারা গজানোর ৭০ থেকে  ৮০ দিন পর মুলত গাজর সবজি হিসেবে খাওয়ার উপযোগী হয়। তবে ভালোমানের গাজর পেতে হলে জমিতে বীজ বোনার ১০০ থেকে ১২৫ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করতে হবে।

    SUNDARBANFARM

    %d bloggers like this: