ডাক-ভাইরাস হেপাটাইটিস কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM -
ডাক-ভাইরাস হেপাটাইটিস

ডাক-ভাইরাস হেপাটাইটিস

হাঁস হ’ল পোষা প্রাণীর মধ্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী সম্পদ। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি হাঁস পালন করা হয়ে থাকে । হাঁসের ডাক ভাইরাস হেপাটাইটিস রোগ একটি ভাইরাস জনিত রোগ । ১৯৪৫ সালে লং আইল্যান্ডে ভাইরাস টাইপ ১,২ ও ৩ প্রথম প্রাদুর্ভাবের কারণে হেপাটাইটিস (DHV-1) দেখা যায় ।  এই রোগটি হাসেঁর বাচ্চার অত্যান্ত ক্ষতিকারক সংক্রামক রোগ যা বাচ্চার ০১ থেকে ২৪ দিন বাচ্চাদের এই রোগটি বেশি দেখা যায় । রোগটি খুব দ্রুত খামারে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত মারা যায় । লিভার বা যকৃত প্রদাহ এ রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অসুস্থ হাঁসের লিভারের প্রদাহ জনিত কারণে এই রোগটিকে হেপাটাইটিস বলা হয়।

ডাক ভাইরাস রোগটি হাঁসের খামারে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক হাঁস মেরে ফেলতে পারে।  ১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এই রোগটি প্রথম সনাক্ত করা হয়েছিল। এর পরে থেকে কানাডা, ইংল্যান্ড, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ইতালি, রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রাজিল, জাপান, ইস্রায়েল, থাইল্যান্ড এবং ভারতে এই হেপাটাইটিস ভাইরাস পাওয়া যায়।

ডাক ভাইরাস রোগের কারণঃ

হেপাটাইটিস রোগটি পিকোরনা ভাইরাস নামক এক ধরণের ভাইরাসের দ্বারা এই রোগ হয়ে থাকে । তিনটি ভিন্ন ভাইরাস যেমন, টাইপ ১,২ ও ৩ এই রোগের প্রধান কারণ।

মহামারী বিজ্ঞান বা এপিডিমিওলজিঃ

১ থেকে ২ সপ্তাহ বয়সী হাঁসের বাচ্চা গুলি প্রাকৃতিক আইন গুলির জন্য খুব সংবেদনশীল। বড় হাঁসের এই রোগ হয় না বল্লেই চলে। স্বাভাবিক ভাবেই , মুরগিদের এই রোগ হয় না। এটি প্রকৃতির একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ এবং প্রকৃতির সহাবস্থানীয় হাঁসের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ডিম গুলিতে বা পোকামাকড় দ্বারা সংক্রমণের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রোগ থেকে সেরে উঠা হাঁসের পায়খানার সাথে প্রায় ৮ সপ্তাহ ধরে শরীর থেকে বেরিয়ে আসে। সংক্রমনের হার প্রায় ১০০% । হেপাটাইটিস রোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর হার ১ সপ্তাহের কম বয়সের শিশুদের মধ্যে প্রায় ৯৫% , ১ থেকে ৩ সপ্তাহের শিশুদের মধ্যে প্রায় ৫০% এবং ৪ থেকে ৫ সপ্তাহের বচ্চাদের মধ্যে খুব কম সংক্রমণ দেখা যায়।

রোগের লক্ষণঃ

অল্পবয়স্ক হাঁসের মধ্যে এই রোগটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় হাঁসের বাচ্চা হঠাৎ করে মারা যায়। কিছু বাচ্চা ঘাড় পিছনের দিকে বাঁকা করে শুয়ে থাকে , অক্রান্ত বাচ্চা চোখ বন্ধ করে থাকে , বাচ্চা গুলি পেটে ব্যথার জন্য চিৎকার করে এবং লাফ দেয়। এভাবে তারা কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘন্টার মধ্যে মারা যায়। কিছু বাচ্চা হালকা সবুজ মল ত্যাগ করে থাকে। কম বয়সী ছানার মৃত্যুহার প্রায় ৫০% থেকে ৯৫% পর্যন্ত ।

রোগের প্রতিরোধঃ

রোগ প্রতিরোধের জন্য,হাসের বাচ্চাদের জন্মের পরে ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ পর্যন্ত খুব ভালভাবে যত্ন নিতে হবে এবং বাচ্চা গুলিকে পরিষ্কার জায়গাতে রাখতে হবে, তাহলে হাঁস গুকে এই ভাইরাস রোগ থেকে বাচাতে পারবেন । হাঁস গুলি সংক্রমণ মুক্ততা বা প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে হাঁসের রোগ প্রতিরোধ করাও সম্ভব।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কিছু উপায়ে তৈরি করা যেতে পারে যেমনঃ

      • অ্যান্টিসিরাম বা হাইপার-ইমিউন (হাইপার-ইমিউন) ইনজেকশন হাঁস গুলিকে জন্মের প্রথম দিন থেকেই দেওয়া যায়। এটি ইমিউনোসপ্রেসিভ (প্যাসিভ ইমিউনিসিটি) এর কারণে হাঁসের বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে ।
      • স্বাস্থ্যকর বাচ্চ থেকে সংক্রামিত বাচ্চা আলাদা করে চিকিৎসা করা উচিৎ।
      • বাসস্থান , ব্যবহারিত পণ্য ও খামারের সরঞ্জাম অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
      • টিকাদান হাঁসের দেহে টিকা দিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা যেতে পারে ।
      • মায়ের দেহ থেকে অনেক অ্যান্টিবডি ডিমের কুসুমের মাধ্যমে শিশুর শরীরে প্রবেশ করে এবং তাকে সুরক্ষা দেয়। তাই মাতৃ দেহে এই টিকা দিয়ে বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ করা যেতে পারে ।
      • জন্মের পরপরই হাঁসের বাচ্চা গুলিকে টিকা দিন।

চিকিৎসাঃ 

  • রোগ দেখা দিলে এন্টিসিরাম দিয়ে চিকিৎসা করা ভাল ।
  • DVH type-1 Hyper immune serum ০.৫ মিলি থেকে ০.১০ মিলি মাংসে অথবা চামড়ার নিচে প্রয়োগ করতে হবে আবার ১৪ দিন বা ২ সপ্তাহ পর আবার ঔষধ টি প্রয়োগ করতে হবে ।
  • আক্রান্ত হাঁস গুলিকে সাথে সাথে আলাদা করে ফেলতে হবে এবং সুন্দর ভাবে চিকিৎসা নিতে হবে।

    SUNDARBANFARM

    %d bloggers like this: