মটরশুটি চাষ কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM -
মটরশুটি চাষ পদ্ধতি

মটরশুটি চাষ পদ্ধতি

মটরশুঁটি আমাদের দেশে একটি জনপ্রিয় শীতকালীন সবজি। আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মটরশুঁটির চাষ হয়ে থাকে। মটরশুঁটি কাঁচা খাওয়া যায়, বীজ শুকিয়ে ডাল হিসেবে খাওয়া যায় তাছাড়াও মটরশুঁটি ভেজে খাওয়া যায়। বর্তমানে আমাদের দেশে ব্যাপকহারে মটরশুঁটি চাষ করা হচ্ছে। আসুন জেনে নেই মটরশুঁটি চাষ করার পদ্ধতি করার সম্পর্কে-

মটরশুঁটি চাষ করার পদ্ধতিঃ


জলবায়ু ও মাটিঃ


মটরশুটি শীত প্রধান ও আংশিক আর্দ্র জলবায়ুর উপযোগী ফসল। মটরশুঁটি চাষের সবচেয়ে উপযোগী তাপমাত্রা হল ১০ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। মটরশুঁটি চাষের জন্য দোআঁশ মাটি সর্বোত্তম। এঁটেল মাটিতে চারা রোগে মারা যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তবে খেয়াল রাখবেন মাটি অবশ্যই সুনিষ্কাশিত হতে হবে।

মটরশুঁটির জাতসমূহঃ


বাংলাদেশে মটরশুটির বেশ কিছু জাত রয়েছে। এদের মদ্ধে উল্লেখযোগ্য জাত হচ্ছে আরকেল, আলাস্কা, গ্রীন ফিস্ট, স্নো ফ্লেক, বনভীল, সুগার স্ন্যপ নামের জাতগুলোর আবাদ হচ্ছে। এছাড়াও বারি মটরশুটি-১, বারি মটরশুঁটি-২, বারি মটরশুঁটি-৩, ইপসা মটরশুটি-১, ইপসা মটরশুটি-২, ইপসা মটরশুটি-৩, আলাস্কা ইত্যাদি জাতসমুহ বেশ জনপ্রিয়।

জমি তৈরি ও বীজ বপনঃ


আমাদের দেশে মটরশুঁটি চাষের উপযুক্ত মাস হল নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী এই চার মাস। কারণ এই চার মাসে অনুকুল জলবায়ুগত পরিবেশ বিরাজমান থাকে। তবে নভেম্বর মাসে মটরশুঁটির বীজ বপন করা সর্বোত্তম। অক্টোবর মাসেও বীজ বোনা যেতে পারে তবে প্রায়ই বৃষ্টি হওয়ার কারণে এ সময় জমি তৈরি করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

তাই সঠিক সময়ে মটরশুঁটির চারা রোপন করতে হবে। মটরশুটির গাছ চারা অবস্থায় অত্যন্ত দুর্বল থাকে। তাই মটরশুঁটি চাষের জন্য জমি খুব ভালো ভাবে তৈরি করতে হবে এর জন্য ৪/৫টি চাষ ও মই দিতে হবে। জমিতে ৪০ সেমি দুরত্বে সারি করে ২০ সেমি পর পর বীজ রোপণ করতে হবে। মটরশুঁটি চাষে জোড়া সারি পদ্ধতিতে চাষ করা ভালো।

সার প্রয়োগ/ব্যবস্থাপনাঃ


মটরশুঁটি চাষের ক্ষেত্রে শতক প্রতি জমিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৪০ কেজি গোবর সার, ৬০০ গ্রাম টিএসপি সার প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া ও টিএসপি অর্ধেক জমি চাষের সময় ও বাকি অর্ধেক দুবার করে পরে দিতে হবে। শেষ চাষে সার প্রয়োগের অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন পরে মটরশুঁটির বীজ বপন করতে হবে।

সেচ ও পানি নিষ্কাশনঃ


মটরশুঁটি চাষে ভালো ফলন পাওয়ার জন্য মটরশুঁটির জমিতে শুকনো মৌসুমে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ টি সেচ দিতে হবে। ফল ধরলে অন্তত একবার সেচ দেয়া জরুরি। ভালো ফসলের জন্য বাউনী দেয়া দরকার। সারি বরাবর খুটি পুঁতে সুতলি দিয়ে বাউনি দেয়া যায়। জমিতে পানি দাঁড়ানো অবস্থায় যেন না থাকে সেজন্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

আগাছা ও নিড়ানিঃ


মটরশুঁটির ক্ষেতে মাঝে মাঝে নিড়ানি দিয়ে সারির দুই পাশের আগাছা তুলে ফেলে জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। সারির মাঝে হালকা কোপ দিয়ে মাঝে মাঝে আগাছা নষ্ট করে ফেলতে হবে। এতে করে আগাছা ফসলের ক্ষতি করতে পারে না।

পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনঃ


মটরশুঁটি চাষে পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মটরশুঁটিতে প্রধানত ড্যাম্পিং অফ, রাস্ট, পাউডারি মিলিডিউ এবং অ্যানথ্রাকনোজ আক্রমণ করে থাকে। এসব রোগ চারা অবস্থায় আক্রমণ করে থাকে। ডাইথেন এম-৪৫ (২ গ্রাম/লিটার) প্রয়োগ করে এ সব রোগ দমন করা যায়। সে সাথে প্রতি লিটার পানিতে রিডোমিল এম. জেড ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ক্ষেতে সেপ্র করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

মটরশুঁটি চাষে কাটুই পোকা সাধারণত চারার গোঁড়া কেটে ফসলের ক্ষতি সাধন করে থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় ভোরবেলায় কেটে ফেলা চারার গোড়ায় চারপাশ থেকে পোকা খুঁজে মেরে ফেলে এ পোকার আক্রমণের প্রকোপ কমানো যায়। এছাড়াও আরও আরও কিছু পোকার আক্রমণ দেখা যায়। এগুলো দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মটরশুঁটির ফসল সংগ্রহঃ


মটরশুঁটির ফসল সংগ্রহ মটরশুঁটি চাষের সর্বশেষ ধাপ। মটরশুঁটির বীজ বপনের এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে গাছে ফুল আসে এবং ফুল ফোটার ২০-২৫ দিন পর বীজের জন্য মটরশুঁটি সংগ্রহ করা যেতে পারে।

    SUNDARBANFARM

    %d bloggers like this: