হাঁস মুরগির পালন কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM -

মুরগির ঠান্ডা লাগা রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ইনফেকশাস কোরাইজা রোগ

চলুন আজ জেনে আসি , ইনফেকশাস কোরাইজা – Infectious Coryza রোগ বা মুরগির ঠান্ডা লাগা রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার বা মুরগির সর্দি,ঠান্ডা,কাশি,কফ ও শ্বাসকষ্ট রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে।ঠান্ডা লাগা রোগ টি একটি খুব পরিচিত রোগ । হিমোফিলাস প্যারাগ্যালিনেরাম নামক গ্রাম নেগেটিভ ব্যকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি রোগ । মুরগির ঘরের মধ্যে ঠিক মত ভেন্টিলেশন না হলে , সঠিক ভাবে বাতাস চলাচল না করতে পারলে , মুরগির বিসানা বা লিটার বেশি পুরু হলে , মুরগির বিসানা বা লিটার বেশি পুরাতন হলে  এবং ঘরের ভিতর এনেমিয়া গ্যাস জমা হলে ইনফেকশাস কোরাইজা রোগ বা ঠান্ডা লাগা রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিতে পারে ।

মুরগির শ্বাসকষ্ট রোগ সকল খামারে কম বেশি দেখা যায় । বয়সক মোরগ ও মুরগি দের এই রোগ বেশি দেখা যায় । আত্যাধিক গরমে এই রোগ বেশি দেখা যায় । এই রোগে মৃত্যুর হার কম হয়ে থাকে কিন্তু মুরগির ওজন কম হয়ে যায় । এই রোগ হলে প্রায় খামারি দের প্রচুর আর্থিক ক্ষতি গ্রস্থ হয়।

মুরগির সকল বিষয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতে, আপনি আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন ।  আপনি যদি তথ্য বলার বা জানার ইচ্ছা থাকে তাহলে আমাকে কমেন্ট করে জানান । আগ্রো হ্যাভেন বিডি টিম আপনাদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করবে। মুরগির ঠান্ডা লাগা রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার – ( Chicken cold of Symptoms and remedies) এর সকল তথ্য ও বিস্তারিত নিম্নে প্রদান করা হলঃ

মুরগির ঠান্ডা লাগা রোগের লক্ষণ

কোরিজা রোগ বা ঠান্ডা লাগা রোগ মুরগির একটি ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণ রোগ। এই রোগটি প্রায়শই প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মধ্যে দেখা যায়। সংক্রমণ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে, দীর্ঘস্থায়ী রোগের ফলে খুব কম সংখ্যক পাখিই বা খুব দ্রুত প্রভাবিত হয়, উচ্চতর শতাংশ পাখি আক্রান্ত হয়। ক্লিনিকাল লক্ষণ গুলির মধ্যে মুখের চারপাশে ফোলা ফোলা ভাব এবং চোখ এবং নাকের নিকাশ থেকে জলযুক্ত বা পুঁসের মতো স্রাব, শ্বাসকষ্ট, হাঁচি, ক্ষুধা হ্রাস, ওজন হ্রাস এবং ডিমের উত্পাদন হ্রাস ইত্যাদি  লক্ষণ দেখা যায়।

ঠান্ডা লাগা রোগের কারণঃ
ঠান্ডা লাগা রোগ হিমোফিলাস প্যারাগ্যালিনেরাম ব্যাকটিরিয়াম দ্বারা সৃষ্ট। হেমোফিলাস প্যারাগ্যালিনারাম এবং হিমোফিলাস গ্যালিনারাম সহ এই জীবের পূর্বের নামগুলি আর ব্যবহার করা উচিত নয়। এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত মুরগি মাধ্যে ধিরে ধিরে ছড়িয়ে পড়ে সকল হাঁস, মুরগির বা পাখির মাঝে। আক্রান্ত মুরগি গুলা দ্বারা দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাকটেরিয়ার বাহক হয়ে থাকে যেমন, একবার যখন কোনও ঝাঁক সংক্রামিত হয় তখন সমস্ত পাখিকে অবশ্যই বাহক হিসাবে বিবেচনা করা উচিত। ঠান্ডা লাগা রোগের প্রধান কারণ নিম্নে আলোচনা করা হলঃ

  • নতুন কাঠের গুড়া সরাসরি লিটার হিসাবে ব্যবহৃত করা হলে ।
  •  লিটার অতিরিক্ত শুকনো থাকে।
  • লিটারে ময়লার পরিমাণ বেশি হলে।
  • মুরগির ঘরের মধ্যে ঠিক মত ভেন্টিলেশন না হলে ।
  • সঠিক ভাবে বাতাস চলাচল না করতে পারলে ।
  • মুরগির বিসানা বা লিটার বেশি পুরু হলে ।
  • মুরগির বিসানা বা লিটার বেশি পুরাতন হলে  ।
  •  ঘরের ভিতর এনেমিয়া গ্যাস জমা হলে ।
  • ঘরে ঢুকার আগে শরীরে স্প্রে না করলে ।
  • চরম গরম আবহাওয়া।
  • কম জায়গায় বেশি মুরগি পালন করলে
  • জীবাণুমুক্ত পানি সরবরাহ করতে হবে ।
  • শীতে বা গরমে ফার্মে তাপমাত্রা সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।

ইনফেকশাস কোরাইজা রোগ

ঠান্ডা লাগা রোগের লক্ষণঃ 

  • মুরগির মুখের ফোলা ভাব দেখা যায় ।
  • নাক মুখ দিয়ে স্রাব বের হতে থাকে।
  • নাক, মুখ, চোখ কান ফোলা ফোলা দেখা যায়।
  • মুরগি হাঁচি ও কাশি দিতে থাকে।
  • কখন কখন রক্ত মিশ্রিত শ্লেষ্মা বের হতে পারে ।
  • মুরগি ঝিম দেই ।
  • মুরগি মাথা নিচের দিকে দিয়ে ঝিম দেই ।
  • ডিম উত্পাদন ১০-৪০% হ্রাস পাবে।
  • মুরগি মাঝে মাঝে অনন্য রকম শব্দ করে।
  • শ্বাস নালী আক্রান্ত হলে ঘড় ঘড় শব্দ হয় ।
  • মুরগির শ্বাস নিতে কষ্ট হয় ।
  • কখন কখন পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হতে পারে ।

রোগের পোস্ট মর্টেম লক্ষনঃ

  • শ্বাসনালীতে প্রদেহের চিহ্ন দেখা যাবে ।
  • সাইনাসের স্থানে শ্লেষ্মা পাওয়া যাবে ।

রোগের চিকিৎসাঃ 
১ ,Cotra-Vet Powder ( কট্রা-ভেট পাউডার) , অথবা,  Azin -Vet Powder  অথবা, Enflox-Vet Solution ( এনফ্লক্স – ভেট সলিউশন)

২, Vitamine-C (ভিটামিন -সি )

৩ , Electroin Powder (ইলেকট্রোমিন পাউডার)

মুরগির ঠান্ডা লাগা রোগের প্রতিকার

প্রতিকারঃ

  •  যদি এমন হালকা নাকের ঘা শুরু হয় তবে প্রথমে ম্যানেজমেন্টটি ঠিক করুন।
  • ডাক্তার পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োগ করুন।
  •  যদি ডাক্তার অ্যান্টিবায়োটিক পরামর্শ দেয় তবে উপযুক্ত ডোজটি মেনে চলুন।
  • রসুন এবং আদা ব্যবহার করতে পারেন।
  • জল পাত্র উত্থাপন।

প্রতিরোধঃ
এটি রোধ করতে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা উচিত: –

  • স্থান যুক্ত করার সময়, নতুন লিটারে মুরগি সরাসরি না রেখে নতুন এবং পুরানো লিটার মিশ্রণ করুন। লিটারে জীবাণুনাশক স্প্রে করুন।
  • বায়ু সরাসরি মুরগির উপরে পরতে দেবেন না।
  • শেডের পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল করতে পারে গ্যাস জমে না যায়।
  • জীবাণুমুক্ত জল সরবরাহ করুন।

ইনফেকশাস কোরাইজা – Infectious Coryza রোগ , Infectious Coryza disease , ইনফেকশাস কোরাইজা রোগ , ইনফেকশাস কোরাইজা রোগের লক্ষণ , ইনফেকশাস কোরাইজা রোগের কারন , ইনফেকশাস কোরাইজা রোগের প্রতিকার , ইনফেকশাস কোরাইজা রোগের পোস্ট মর্টেম , ইনফেকশাস কোরাইজা রোগের চিকিৎসা , ইনফেকশাস কোরাইজা রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ,

মুরগির ঠান্ডা লাগা রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার , মুরগির ঠান্ডা লাগা রোগ,মুরগির ঠান্ডা লাগা রোগের লক্ষণ , মুরগির ঠান্ডা লাগা রোগের প্রতিকার , মুরগির ঠান্ডা লাগা রোগের চিকিৎসা , মুরগির ঠান্ডা লাগা রোগের পোস্ট মর্টেম ,  মুরগির ঠান্ডা লাগা রোগের প্রতিকার , মুরগির ঠান্ডা লাগা রোগের কারণ , ঠান্ডা লাগা রোগের কারন ,

    SUNDARBANFARM

    %d bloggers like this: