রক্ত আমাশায় হাঁস মুরগি কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM -
মুরগির রক্ত আমাশয়

মুরগির রক্ত আমাশায় রোগের লক্ষণ

ককসিডিওসিস বা রক্ত আমাশয় এর কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ
খামারে মোরগ-মুরগির ককসিডিওসিস বা রক্ত আমাশয় প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং প্রত্যেক খামারীকেই সে চেষ্টা করা উচিত । কারণ খামারে কক্রিডিওসিস রোগের প্রাদুর্ভাব হলে সে খামারে এ রোগের পুনরায় প্রাদুর্ভাবের সম্ভাবনা থাকে । রক্ত আমাশয় বা কক্রিডিওসিস পুনরায় প্রতিরোধে সঠিক ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । বদ্ধ খামারে পালিত মোরগ-মুরগিতে কক্রিডিওসিস নিয়ন্তণ করা খুবই কঠিন, কারণ ককসিডিয়ার ‘উসিস্ট’গুলো প্রচুর পরিমাণে খামারের সর্বত্র ছড়ানো থাকে এবং খুব সহজে বেশি পরিমাণ ‘উসিস্ট’ অন্য মোরগ-মুরগি খেয়ে ফেলে।
ককসিডিওসিস বা রক্ত আমাশয় এর কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ

 

ককসিডিওসিস বা রক্ত আমাশয় এর কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ

■ ককসিডিওসিস রোগের কারণ সমূহ
রক্ত আমাশয় বা ককসিডিওসিস একটি প্রোটোজোয়াজনিত রোগ । মোরগ-মুরগি সাধারণত নিম্নলিখিত নয় প্রকারের আইমেরিয়া প্রজাতি দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে। যেমন-আইমেরিয়া টেনেলা , আইমেরিয়া ব্রুনেটি, আইমেরিয়া ম্যাক্রিমা , আইমেরিয়া নেকাট্রিক্র, আইমেরিয়া এসারভুলিনা , আইমেরিয়া মেভেটি , আইমেরিয়া মিটিস , আইমেরিয়া হেগেনি, আইমেরিয়া প্রিকক। এই নয় প্রজাতির আইমেরিয়ার মধ্যে আইমেরিয়া টেনেলা, আইমেরিয়া ব্রুনেটি ও আইমেরিয়া ম্যাক্রিমা এই তিন প্রকারের প্রজাতির আইমেরিয়ার প্রকোপই সবচেয়ে বেশি এবং মারাত্মক‍। এছাড়া আইমেরিয়া নেকাট্রিক্র, আইমেরিয়া এসারভুলিনা ও অন্যান্য প্রজাতি দ্বারা আক্রান্ত হতে ও দেখে যায় , যার ফলে প্রচুর পরিমাণে ডায়রিয়া হয়।
■ মুরগির রক্ত আমাশর লক্ষণ সমূহ
মোরগ মুরগির ককসিডিওসিস রোগের প্রধান লক্ষণ আন্তিক প্রদাহ। রক্ত ও আম মিশ্রিত পায়খানা অথবা ডায়রিয়া দেখা যায় । পালক উষ্কো খুস্কো ও ঝুটি ফ্যাকাশে হয় । যেহেতু অন্তনালী প্রধান লক্ষ্যস্থল তাই আক্রান্ত মোরগ-মুরগি খাদ্য ও পানি কম খায় । খাদ্য হজম হয় না ফলে দৈহিক ওজন হ্রাস পায় , দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ।
আক্রান্ত মোরগ-মুরগি এক জায়গায় জড়ো হয়ে থাকে । আক্রান্ত মোরগ-মুরগির দেহ গোল হয়ে বলের আকার নেয় । সাব ক্লিনিক্যাল অবস্থায় ককসিডিওসিস হলে পেট ব্যথার কারণে আক্রান্ত মোরগ- মুরগি ঠোকরা ঠুকরি করে, অস্থির অবস্থা বিরাজ করে । সাধারণত আইমেরিয় টেনেলা খুবই ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত যা মোরগ-মুরগির সিকামে থাকে, রক্তক্ষরণ হয় এবং মৃত্যু হার বৃদ্ধি করে । অন্যান্য আইমেরিয়া প্রজাতিগুলো বেমি ক্ষতিকর না হলে ও অন্তের এপিথেলিয়াল কোষ ধ্বংস করে এবং পরবর্তীতে কলস্ট্রিডিয়াম নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে নেক্রোটিক এন্টারাইটিস নামক রোগ সৃষ্টি করে।
■ ককসিডিওসিস রোগের প্রতিরোধ
রক্ত আমাশয় বা কক্রিডিওসিস প্রতিরোধ গুলো
【1】খামার ও পানির পাএ মোরগ-মুরগির পিঠ বরাবর রাখা, যেন খামার ও পানির পাত্র পায়খানার সংস্পর্শে না আসে ।
【2】লিটার সবসময় শুষ্ক রাখা, মাঝে মাঝে ওলট-পালট করা এবং ভিজা লিটার সরিয়ে ফেলা ।
【3】খামারের জায়গার তুলনায় অধিক মুরগি পালন না করা ।
【4】পুষ্টির ঘাটতি হলে রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পায় । এজন্য নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করতে হবে । অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত খাদ্য দেয়া যাবে না । পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ‘এ’ ও ‘কে’ সরবরাহ করতে হবে ।
【5】পুরাতন লিটার সম্পূর্ন ফেলে না দিয়ে ৫-১০% পুরাতন লিটার নতুন লিটারের সাথে মিশানো ।
【6】খাদ্য কক্রিডিওস্ট্যাট ব্যবহার করেন রক্ত আমাশয় নিয়ন্তণ করা যায়
【7】খাবার ও পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখা।
【8】আক্রান্ত মোরগ- মুরগির বিষ্টা সরিয়ে ফেলা যেন সুস্থগুলো এ বিষ্টার সংস্পর্শে না আসে ।
【9】বাচ্চা মোরগ-মুরগির বয়স্কগুলো থেকে আলাদা রাখা কারণ বয়স্ক মোরগ-মুরগির রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে ।
■  ককসিডিওসিস রোগের চিকিৎসা
সালফানামাইড জাতীয় ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা করা যেতে পারে। তবে সবচেয়ে ভালো হবে পশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা। পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

    SUNDARBANFARM

    %d bloggers like this: