শাহীওয়াল কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM -
শাহীওয়াল গরু

শাহীওয়াল গরু

এর নামটি এসেছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ‘শাহিওয়াল’ জেলার নাম থেকে।  শাহিওয়াল গরু জেবু (বস ইন্ডিকাস) জাতের একটি বহু পরিচিত একটি গরুর প্রজাতি। এটি প্রায় সময়ই দুধ ও মাংস উৎপাদনের উদ্দেশ্যে প্রতিপালন করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এই প্রজাতির গরুটি বহুল পরিচিত ও অনেকেই এটির খামার করে থাকে। একে ‘মুলতানি’ হিসেবেও  অনেকে চিনে থাকে।

ইতিহাস ও বিস্তৃতি

শাহিওয়াল গরুর উৎসস্থল ভারত-পাকিস্তানে সীমান্তবর্তী পাঞ্জাবের শুষ্ক অঞ্চলগুলো। বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, গত শতাব্দীর প্রথম দিকে শাহিওয়াল গরুর খামার গড়ে উঠে। মূলত, তখন থেকেই ভারত ও পাকিস্তানে শাহিওয়াল গরু ব্যাপক পালন করা হতে থাকে। এটি বর্তমানে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া সহ এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশে পালন করা হয়ে থাকে। তবে এটি একেক দেশে একেক উদ্দেশ্যে পালন করা হয়ে থাকে। যেমন, পাকিস্তানে এটি দুধ উৎপাদন ও অস্ট্রেলিয়াতে মাংস উৎপাদনের উদ্দেশ্যে পালন করা হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে এটি দুধ ও মাংস দুটির জন্যই প্রতিপালন করা হয়ে থাকে।

বৈশিষ্ট্য

শাহিওয়াল গরুর রং লালচে-বাদামি অথবা লালের কাছাকাছি হয়ে থাকে। পূর্ণ বয়স্ক ষাঁড়ের ওজন প্রায় ৫০০-৬০০ কেজি এবং গাভীর ওজন প্রায় ৪০০-৫০০ কেজি হয়ে থাকে এবং শাহিওয়াল গরুর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি প্রচণ্ড গরমেও অসুস্থ হয়ে পড়ে না, যার কারনে গ্রীষ্ম-প্রধান দেশে এর জনপ্রিয়তা ব্যাপক। এটি বিভিন্ন ধরনের পরজীবীর আক্রমণ থেকে নিজেকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হওয়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রবল। এর মাথা চওড়া ও শিং ছোট। শাহিওয়াল গরুর আয়ু প্রায় ২৫-৩০ বছর হয়ে থাকে এবং প্রায় ২০ বছর পুনরুৎপাদন করতে সক্ষম।

শাহিওয়াল গরু দুধ উৎপাদনের জন্যও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। দুধ উৎপাদন করা অবস্থায় এটি প্রায় ২২০০ থেকে ২৫০০ কেজি দুধ দিয়ে থাকে। তবে তার চেয়েও যে বিষয়টি শাহিওয়াল গরুর দুধ জনপ্রিয় করেছে সেটা হলো দুধের উৎকৃষ্টতা। এর রয়েছে উন্নত মানের মিল্ক ফ্যাট ও প্রোটিন যা হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান থেকেও বেশি। তবে, শাহিওয়াল গরুর দুধ উৎপাদন কাল কম।

শাহিওয়াল গরুর মাংসও উৎকৃষ্ট মানের। এমনকি এটি মাংসের জন্যই অধিক জনপ্রিয়। আকৃতি বড়সড়, মোটা ও সুদর্শন হওয়ায় হাটে যে কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম।

সুবিধা

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অধিক।
  • শরীরের গঠন সুন্দর ও মোটাসোটা।
  • প্রচণ্ড গরম ও খরায়ও টিকে থাকতে সক্ষম।
  • দুধ ও মাংস দুটোই উন্নতমানের।
  • ফ্যাট ও প্রোটিন অধিক।
  • এটি অন্যান্য গরুর প্রজাতির সাথে ক্রস করিয়ে পালন করা যায়।
  • সাধারণত আয়ু দীর্ঘ হয়ে থাকে।
  • উৎকৃষ্ট মানের ঘি ও অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব।
  • অসুবিধা

    • প্রজননক্ষম হতে অধিক সময় লাগে।
    • দুধ উৎপাদন কাল কম।
    • ইনসেমেনেশনের পর দুধ উৎপাদন আরও কমে যায়।
    • বাট মোটা ও শক্ত হওয়ায় দুধ দোহন একটু অসুবিধাজনক।

    SUNDARBANFARM

    %d bloggers like this: