হাঁস মুরগির পালন কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM -
হাঁসের ডাক প্লেগ রোগ

হাঁসের ডাক প্লেগ রোগ

ডেস্ক প্রতিবেদন, এগ্রিকেয়ার২৪.কম: হাঁসের রোগ সাধারণত মুরগির চেয়ে কম হয়ে থাকে। সারাবিশ্বে কোটি কোটি হাঁস পালন করা হয়। এসব হাঁস অনেকাংশে পরিণত বয়সের আগেই মারা যায়। বিভিন্ন ধরনের রোগের কারণে হাঁসের মৃত্যু হয়ে থাকে। তেমনই একটি রোগ ডাক প্লেগ । আসুন জেনে নিই হাঁসের ডাক প্লেগ রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা।

এ রোগের অপর নাম ডাক ভাইরাস এন্টারাইটিস। ডাক প্লেগ রোগ হারপেস (Herpes) গ্রুপের এক প্রকার ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হাঁসের মারাত্নক প্রকৃতির সংক্রামক রোগ।

১৯২৩ সালে সর্বপ্রথম বডেট (Baudet) এ রোগ নেদারল্যান্ডে সনাক্ত করেন। পরবর্তীকালে ফ্রান্স, জার্মানী, আমেরিকা, ভারত, বাংলাদেশ এবং পৃথিবীর আরো বহু দেশে এ রোগ সনাত্ত করা হয়েছে। ১৯৬৩ এবং ১৯৬৫ সালে ভারতবর্ষে এ রোগের প্রার্দুভাব ঘটে এবং বহুসংখ্যক হাঁস মারা যায়।

লক্ষণ :

১. হাঁস দাঁড়াতে পারে না। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটে।
২. সাঁতার কাটতে চায় না, পা অবশ হয়ে যায়।
৩. পানির পিপাসা বেড়ে যায়; কিন্তু খাওয়া দাওয়া কমে যায়।
৪. পালক এলোমেলো হয় এবং হাঁস পাখনার উপর ভর করে ঝিমাই।
৫. পায়খানা পাতলা হয়। অনেকসময় পায়খানা সবুজ ও হলুদ রংয়ের হয়ে থাকে। অনেক সময় পায়খানার সাথে রক্ত মিশ্রিত থাকে।
৬. রোগের প্রকোপ বেশি হলে অনেক সময় পুরুষ হাঁসের প্রজনন অঙ্গ বেরিয়ে আসে।
৭. ময়নাতদন্ত করলে হাঁসের হৃদপিণ্ড, কলিজা এবং ডিম্বথলিতে জমাটবাঁধা রক্ত পাওয়া যায়।
৮. অনেক সময় চোখ দিয়ে পানি পড়ে।

চিকিৎসাঃ

১. হাঁসের সংখ্যা কম হলে:
রেনামাইসিন ট্যাবলেট : বাজারে দুই প্রকার ক্যাপসুল পাওয়া যায় ২৫০ এমজি(mg) এবং ক্যাপসুল ৫০০ এমজি(mg)।
প্রতিটি হাঁসকে অর্ধেক করে সকাল বিকাল ট্যাবলেট ২৫০ এমজি(mg) ৩-৫ দিন খাওয়াতে হবে।
যদি ৫০০ এমজি(mg) ট্যাবলেট হয়, তাহলে ১/৪ ভাগ করে সকাল বিকাল ৩-৫ দিন খাওয়াতে হবে।

২. হাঁসের সংখ্যা বেশি হলে:

এনরক্স-১০/এনরো-১০/সিপ্রোসল: প্রতি ২ লিটার পানিতে ১ মিলি করে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে ৫-৭ দিন পর্যন্ত।

৩ সপ্তাহ বয়সের হাঁসের বাচ্চাকে ১ম টিকা দিতে হয়। ৬ মাস পর্যন্ত এ টিকার রোগ প্রতিরোধ ক্ষ্মমতা বজায় থাকে। তাই ৬ মাস পর পর এই টিকা দিতে হয়। খামারে রোগ দেখা দিলে সুস্থ হাঁসগুলিকে আলাদা করে এ টিকা দিতে হয়।

সাধারণত খামারে হাঁসের জন্য বালি এবং মুরগির জন্য লিটারের ব্যবস্থা করা হয়। খামারে যে কোনো একটি পশু/পাখি অসুস্থ হলে, তাকে সঙ্গে সঙ্গে আলাদা করে চিকিৎসা দিতে হবে। ভাইরাসজনিত রোগ হলে সকল পাখিকে একসাথে চিকিৎসা দিতে হবে।

অতিসত্তর নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের দ্বারা চিকিৎসা করাতে হবে।

    SUNDARBANFARM

    %d bloggers like this: