আলুর নাবী ধ্বসা বা লেট ব্লাইট রোগ

আলুর নাবী ধ্বসা বা লেট ব্লাইট রোগ

রোগের নামঃ

আলুর নাবী ধ্বসা বা লেট ব্লাইট রোগ Late Blight of Potato

রোগের কারণ:

Phytophthora infestans নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে।

লক্ষণঃ

  • এ রোগের আক্রমণে প্রথমে পাতায় ছোপ ছোপ ভেজা হালকা সবুজ গোলাকার বা এলোমেলো দাগ দেখা দেয়, যা দ্রুত কালো হয়ে পচে যায়।
  • গাছের কান্ড এবং টিউবারেও এ রোগের আক্রমণ দেখা যায়।
  • সকাল বেলা মাঠে গেলে পাতার নীচে সাদা সাদা পাউডারের মত ছত্রাক দেখা যায়।
  • তীব্র আক্রমণে সম্পূর্ণ জমির ফসল পুড়ে যায়। যদি রাতে নিম্ন তাপমাত্রা ও উচ্চ জলীয় বাষ্প এবং তার সাথে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, কুয়াশা এবং পাতায় শিশির জমে থাকে তাহলে এ রোগ কয়েক দিনের মধ্যে মহামারী রূপ ধারণ করে। আক্রান্ত গাছ দ্রুত পাতা ও কা-সহ পচে যায় এবং ২-৩ দিনের মধ্যেই মাঠের সমস্ত গাছই মরে যেতে পারে।
  • আক্রান্ত আলুর গায়ে ও ভিতরের অংশে গাঢ় বাদামী থেকে কালচে বর্ণের দাগ পড়ে।
  • বাতাস, বৃষ্টিপাত, সেচের পানি ইত্যাদির সাহায্যে এ রোগের জীবাণু আক্রান্ত গাছ থেকে সুস্থ গাছে বিস্তার লাভ করে। বিকল্প পোষক যেমন টমেটো গাছ থেকেও এ রোগ বিস্তার লাভ করতে পারে।

সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনাঃ

  • রোগ প্রতিরোধী বা সহনশীল জাত যেমন-বারি আলু-৪৬, বারি আলু-৫৩, বারি আলু-৭৭ চাষ করা।
  • রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করা।
  • আক্রান্ত জমিতে সেচ বন্ধ করে দেওয়া।
  • সারিতে ভালভাবে মাটি উঁচু করে দেওয়া।
  • আগাম জাতের আলু চাষ করা এবং আগাম সংগ্রহ করা।
  • নিম্ন তাপমাত্রা, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া ও বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়ার সাথে সাথে রোগ প্রতিরোধের জন্য ৭-১০ দিন অন্তর অন্তর ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন- ডাইথেন এম-৪৫/ ইন্ডোফিল/ হেম্যানকোজেব/ ফরমোকোজেব ৮০ ডব্লিওপি/মাইকোজেব ৮০ ডব্লিওপি ইত্যাদি প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করা।
  • জমিতে রোগ দেখা দেওয়া মাত্রই সিকিউর (২ গ্রাম/লিটার) অথবা এক্রোভেট এম জেড (২ গ্রাম/লিটার) অথবা মনা ২৮ এসসি (১ গ্রাম/লিটার) অথবা মেলোডি ডিও ৪ গ্রাম + সিকিউর ২ গ্রাম (প্রতি লিটার পানিতে) অথবা এক্রোভেট এম জেড ২ গ্রাম + সিকিউর ১ গ্রাম (প্রতি লিটার পানিতে) অথবা মেলোডিডিও ১ গ্রাম + এক্রোভেট এম জেড ২ গ্রাম (প্রতি লিটার পানিতে), ৭ দিন অন্তর উপরোক্ত যে কোন একটি ছত্রাকনাশক বা ছত্রাকনাশকের মিশ্রণ স্প্রে করা।
  • এখানে উল্লেখ্য যে রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী হলে আরো ঘন ঘন ঔষধ ছিটানোর প্রয়োজন পড়তে পারে। ভেজা অবস্থায় জমিতে ছত্রাকনাশক না দেয়াই ভাল। আর যদি দিতেই হয় তাহরে প্রতি লিটার পানিতে ২-৩ গ্রাম সাবানের গুঁড়া পাউডার যোগ করে নিতে হবে। ছত্রাকনাশক ভালভাবে ছিটাতে হবে যাতে পাতার নীচে ও উপরে ভালভাবে ভিজে যায়। এ ক্ষেত্রে সাধারন স্প্রেয়ারের পরিবর্তে পাওয়ার স্প্রেয়ার ভাল ফল দেয়।
  • মাটি ভেজা অবস্থায় কিংবা বৃষ্টির পর পর আলু না তুলে শুকনা অবস্থায় মাটিতে ‘জো’ এলে আলু তোলা।
  • হিমাগারে আলু রাখার আগে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বীজ বাছাই করতে হবে, যাতে কোনভাবে রোগাক্রান্ত আলু সুস্থ্য বীজের সাথে না থাকে।
  • রোগাক্রান্ত গাছ দিয়ে আলুর স্তুপ বা সংগৃহীত আলু ঢেকে রাখা যাবে না।
  • আলুর মৌসুমে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করা।
  • মেটালেক্সিল গ্রুপের ছত্রাকনাশকের বিরুদ্ধে ফাইটোপথোরা ইনফেসট্যান্স এর নতুন রেস তৈরি হওয়ায় এখন থেকে ঐ গোত্রের ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা যাবে না।
  • আক্রান্ত জমি হতে বীজ আলু সংগ্রহ করা যাবে না।

Similar Posts

X
%d bloggers like this: