ব্রোকলি বীজ সকল কোম্পানি - কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM ব্রোকলি বীজ সকল কোম্পানি

ব্রোকলি বীজ সকল কোম্পানি

Out of stock

আপনার পছন্দের পণ্য টি সিলেক্ট করুন আর অর্ডার করুন।

This product is currently out of stock and unavailable.

ব্রোকলি দেখতে ফুলকপির মতই, তবে রংটা সবুজ। এর বর্ণ সবুজ বলে অনেকেই এক সবুজ ফুল কপি বলে। চাইনিজ খাবারের ব্যবহৃত অন্যতম প্রধান উপকরণ এই সবজী। বাংলাদেশের অধিকাংশ লোকের কাছে ব্রোকোলি এখনো তেমন পরিচিত নয়। চমৎকার এই সবজিটি এখন বাংলাদেশেই চাষ হচ্ছে এবং এটি দেশের চাইনিজ রেস্টুরেন্ট গুলোর চাহিদা মিটিয়ে এটি এখন দেশের  বাইরেও রপ্তানি হচ্ছে। পুষ্টির দিক দিয়েও ব্রোকলি অনেক সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, সি এবং খনিজ পদার্থ রয়েছে এবং এর গন্ধটাও আকর্ষণীয়। ব্রোকলি ফুলকপির মত অত বড় হয় না। নিয়মিত ব্রোকলি খেলে তারুন্যতা বৃদ্ধি পায়।

ব্রোকলি চাষে প্রয়োজনীয় জলবায়ু ও মাটি

সাধারণভাবে যে ধরনের জলবায়ুতে ফুলকপির চাষ হয় সেখানে ব্রোকলিও ভাল জন্মে। তবে ব্রোকলির পরিবেশিক উপযোগিতার সীমা একটু বেশি বিস্তৃত৷ পানি জমে না এরূপ উঁচু জমি, উর্বর দোআঁশ মাটি হলে ফলন ভালো পাওয়া যায়। ব্রোকলির গাছ ১৫-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সবচেয়ে ভাল জন্মে৷ ব্রোকলি এপ্রিল মাসের পরেও ভালো ফলন দিতে পারে। দেশের সব অঞ্চলেই ব্রোকলি চাষ করা যেতে পারে। সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা আছে এমন জমি ব্রোকলি চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে।

ব্রোকলি এর উল্লেখযোগ্য জাত

ব্রোকলি শুধুমাত্র সবুজ রঙের হয় না। এর বিভিন্ন রঙের বিভিন্নতা আছে। বেগুন বা সাদা রঙের ব্রোকলিও আছে। বেগুনি রঙ্গের জাত গুলো বেশি শক্ত এবং সবুজ রঙ্গের চেয়ে কম স্বাদের হয়ে থাকে। সাধারণত আঁটসাঁটো মাথার ছোট আঁকারের গাড় সবুজ বা নীলাভ সবুজ রঙের ব্রোকলি জাতের চাহিদা বেশি।

উল্লেখযোগ্য জাতগুলো হচ্ছে- প্রিমিয়াম ক্রপ, গ্রিন কমেট, ডিসিক্কো, টপার-৪৩, ডান্ডি, সপ্রডিটিং টেক্সাস ১০৭, গ্রিন ডিউক, ক্রুসেডার, ওয়ালথাম ২৯, গ্রিন মাউন্টেইল, ইতালিয়ান গ্রিন, গ্রীন বাড ইত্যাদি। এর সবগুলো জাতই বিদেশ থেকে আমদানি করা৷ বর্তমানে আমাদের দেশে জাপান থেকে বেশ কিছু জাতের ব্রোকলি বীজ আসছে ও বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া ব্রোকলির বীজ উৎপাদনের উপযুক্ত নয় বলে প্রতি বছরই বীজ আমদানি করতে হয়।

ব্রোকলি চাষে  কিভাবে চারা তৈরি করবেন

পাতা পচা সার বা গোবর সার ১ ভাগ, বালু ১ ভাগ ও মাটি ২ ভাগ মিশিয়ে ব্রোকলির বীজতলা তৈরি করতে হয়। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত ব্রোকলির চারা রোপন করা যায়। কম বয়সের চারা দ্রুত বাড়ে। সেপ্টেরম্বর মাসে যখন বৃষ্টি কমে আসে তখন উঁচু জমি দেখে বীজতলা করা যায়।  বীজতলায় ১ মিটার চওড়া করে বেড তৈরি করতে হবে। বেডের মাটি ভাল করে কুপিয়ে ঘাস আগাছা পরিষ্কার করে প্রতি বর্গমিটারে ৪ থেকে ৫ কেজি গোবর সার মাটির সাথে মিশিয়ে বেড সমান করে কয়েকদিন রেখে দিতে হবে। আগাম মৌসুমে বৃষ্টি হলে বীজতলায় পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বৃষ্টির সময় চারাকে রক্ষা করতে হবে। চারা রোপনের সময় হিসাব করে চারা উৎপাদন করতে হবে। এক হেক্টর জমির চারার জন্য বীজতলায় ২৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম বীজ বুনতে হবে। মনে রাখবেন মাস খানেকের কম বয়সী চারা লাগানো ভাল। লক্ষ রাখতে হবে কখনও যেন বীজতলা একেবারে শুকিয়ে না যায় আবার পানি জমে না থাকে। চারা তোলার পূর্বে বীজতলায় সেচ দিয়ে নিতে হবে। তাহলে চারার গোঁড়া নরম হয়ে আসে এবং বীজ তুলতে সহজ হয়।

ব্রোকলি চাষের  উপযুক্ত জমি তৈরি ও চারা রোপন

ব্রোকলি ঠান্ডা আবহাওয়ার ফসল বলে বাংলাদেশে শুধু রবি মৌসুমে এর চাষ হয়। ব্রোকলির চাষ অবিকল ফুলকপির মতোই। সারাদিন রোদ পায় এমন জমি ব্রোকলি চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে। লাঙ্গল বা টিলার দিয়ে মাটি কয়েক দিন রোদে ফেলে রাখতে হবে। সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধার জন্য বেডে চারা রোপণ করাই ভালো। সেচ দেয়া এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা অত্যন্ত জরুরি। চাষ দেয়ার সময় শতকে ২৫ থেকে ৪০ কেজি পচা গোবর বা খামারজাত সার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। মাটির সব ঘাস, শিকড় আগাছা, আবর্জনা, পরিষ্কার করে ঢেলা ভেঙে ফেলে সমান করতে হবে। চারা লাগানোর পর চারার গোড়ায় অবশ্যই পানি দিতে হবে। চারা রোপনের পূর্বে গোড়ার দিকে দু-একটি বড় পাতা কেটে বাদ দিলে চারা কম মরবে। চারার মাথা থেকে নতুন পাতা ছাড়া শুরু হলেই বুঝতে হবে চারা মাটিতে লেগে গেছে এবং নতুন শিকড় ছেড়ে মাটি থেকে খাবার ও পানি গ্রহণ শুরু করেছে।

ব্রোকলি চাষে  সার প্রয়োগ/ব্যবস্থাপনা

ব্রোকলির জন্য অন্যান্য সার খুবই উপকারী। ইউরিয়া সারের পরিমাণ বাড়ানোর সাথে সাথে ফলনও বাড়ে। জমি তৈরির সময় ও পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পরিমান জৈব সার ও রায়াসানিক সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি হেক্টরে গোবর ১৫ হাজার কেজি, ইউরিয়া ২৫০ কেজি, এমপি ২০০ কেজি, টিএসপি ১৫০ কেজি এবং প্রতি চারায় পচা খৈল ৫০ গ্রাম হারে প্রয়োগ করতে হয়। জৈব সারের সাথে ইউরিয়া সার চারা রোপণের ১৫ দিন পর থেক দুই কিস্থিতে সমান ভাগ করে দিতে হবে।

ব্রোকলি চাষে  সেচ ও পানি নিষ্কাশন

সার দেয়ার পরপরই সেচ দিতে হবে। জমি শুকনো দেখলে সেচ দিতে হবে।

ব্রোকলি চাষে  আগাছা ও নিড়ানি

সার দেয়ার ঠিক আগে আগাছা নিড়ানো ভালো। এতে সার ভালভাবে মাটির সাথে মিশতে পারে এবং সারের অপচয় কম হয়। গাছের পাতা পরিপূর্ণভাবে ছড়ানোর পূর্ব পর্যন্ত জমি অবশ্যই আগাছামুক্ত রাখতে হবে। তবে মনে রাখবেন ব্রোকলি একটি অগভীরমূলী ফসল। তাই গাছের গোড়ার কাছাকাছি মাটি ৫ সেন্টিমিটারের বেশিগভীর করে নিড়ানো যাবে না। যদি বেড বা জমির মাটি শক্ত হয়ে চটা বেঁধে যায় তবে অবশ্যই নিড়ানি বা কোদাল দিয়ে তা ভেঙে দিতে হবে।

ব্রোকলি চাষে  পোকামাকড় ও রোগদমন

ব্রোকলি চাষের সময় জমিতে পোকার আক্রমণ হতে পারে। পোকা দমনের জন্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। আমাদের দেশে ব্রোকলির সবচেয় ক্ষতিকর পোকা হল মাথাখেকো লেদা পোকা। এছাড়াও আরও অন্যান্য পোকার মধ্যে রয়েছে ক্রসোডলমিয়া লেদা পোকা, বিছা পোকা, ঘোড়া পোকা ইত্যাদি। এছাড়াও ব্রোকলির বিভিন্ন ধরণের রোগের মধ্যে আছে পাতায় দাগ ও কালো পচা রোগ প্রধান সমস্যা। এছাড়া  চারা ধ্বসা, গদাই মূল, মোজাইক, ইত্যাদি রোগ দ্বারা আক্রমণ হয়ে থাকে।

সাধারনত ব্রোকলির কেন্দ্রীয় মাথা বা ফুল গুচ্ছটিই তোলা হয়। তোলার সময় সঠিকভাবে বুঝে ব্রোকলি সংগ্রহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, উপযুক্ত সময়ে তোলা না হলে ফুল ঢিলা হয়ে যায়, এমনকি ফুল ফুটতে শুরু করে। জাত অনুযায়ী মাথার ব্যাস ১৫ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার হতে পারে।

Only logged in customers who have purchased this product may leave a review.

Reviews

There are no reviews yet.

SUNDARBANFARM

ব্রোকলি

ব্রোকলি বীজ সকল কোম্পানি

%d bloggers like this: