কাঁঠাল - কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM কাঁঠাল

কাঁঠাল

৳ 0

Out of stock

প্রোডাক্ট নং-১১৯০০

Call-01842-186969-096413-186969

নাম : কাঁঠাল

কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল। এর ইংরেজি নাম Jackfruit বৈজ্ঞানিক নাম Artocarpus heterophyllus. আকারের দিক থেকে কাঁঠাল সবচেয়ে বড় ফল। বাংলাদেশের সব জেলাতেই কাঁঠালের চাষ হয়। তবে ঢাকার উঁচু অঞ্চল, সাভার, ভালুকা, ভাওয়াল ও মধুপুরের গড়, বৃহত্তর সিলেট জেলার পাহাড়ি এলাকা, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি এলাকায় সবচেয়ে বেশি কাঁঠাল উৎপন্ন হয়।
পুষ্টিগুণ

কাঁঠালে প্রচুর শর্করা, আমিষ ও ভিটামিন ‘এ’ আছে।

বাজার সম্ভাবনা

কাঁঠাল খুব উপকারী ফল। দামের তুলনায় এত বেশি পুষ্টি উপাদান আর কোন ফলে পাওয়া যায় না। কাঁচা কাঁঠাল তরকারি ও পাকা কাঁঠাল ফল হিসেবে খাওয়া যায়। এছাড়া কাঁঠালের বীজ ময়দা ও তরকারি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কাঁঠালের পাতা ছাগলের প্রিয় খাদ্য। কাঁঠালের ছোবড়া গরুর প্রিয় খাদ্য। এছাড়া কাঁঠাল কাঠ দিয়ে উন্নতমানের আসবাবপত্র তৈরি করা হয়। তাই কাঁঠালের চাহিদা প্রায় সারাবছরই থাকে। কাঁঠাল চাষ করে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বাড়তি আয় করাও সম্ভব। এছাড়া দেশের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত উৎপাদন বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। এক্ষেত্রে বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সহায়তা দিয়ে থাকে। কাঁঠাল বিদেশে রপ্তানি করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

কাঁঠাল উৎপাদন কৌশল

জাত

আমাদের দেশে সাধারণত তিন ধরণের কাঁঠালের জাত চাষ করা হয়-খাজা, আধরসা ও গলা।

তথ্যসূত্র : কৃষি প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল, জুন ২০০৭,Microfinance for Marginal and Small Farmers (MFMSF) Project, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সেল-১, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), ঢাকা।

* চাষের উপযোগী পরিবেশ ও মাটি

জলবায়ুমাটির প্রকৃতি
কাঁঠালের চারা জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি থেকে শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি সময়ে রোপণ করা হয়।পানি জমে না এমন উঁচু ও মাঝারি উঁচু সুনিষ্কাশিত উর্বর জমি কাঁঠাল চাষের জন্য উপযোগী। তবে দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ, এঁটেল ও কাকুরে মাটিতেও এর চাষ করা যায়।

বংশবিস্তার

১. সাধারণত কাঁঠালের বীজ থেকেই চারা তৈরি করা হয়। এর ফলে গাছের মাতৃবৈশিষ্ট্য বজায় না থাকলেও ফলনে বিশেষ তারতম্য দেখা যায় না।
২. ভালো পাকা কাঁঠাল থেকে পুষ্ট বড় বীজ বের করে ছাই মাখিয়ে ২/৩ দিন ছায়ায় শুকিয়ে নিতে হবে।
৩. এরপর বীজ বপন করলে ২০-২৫ দিনে চারা গজাবে।
৪. তিন থেকে চার মাস পরে চারা সাবধানে তুলে মূল জমিতে রোপণ করতে হবে।
৫. এছাড়া অঙ্গজ বংশবিস্তার পদ্ধতি, যেমন-গুটি কলম, ডাল কলম, চোখ কলম এবং টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে কাঁঠালের চাষ করা যায়।
চারা রোপণ

১. চারা রোপণ করার ১০ দিন আগে ১ মি. X ১ মি. মাপের গর্ত তৈরি করতে হবে।
২. মাটির সঙ্গে সার মিশিয়ে গর্তে রাখতে হবে।
৩. গর্তের মাঝখানে চারা লাগাতে হবে।
৪. গাছ ও সারির দূরত্ব ১২মি. X ১২ মি. রাখতে হবে।
৫. চারা লাগিয়ে গোড়া থেকে কিছুটা দূরে খুঁটি পুঁততে হবে। খুঁটির সাথে গাছকে হালকাভাবে বাঁধতে হবে।

সার প্রয়োগ

কৃষকদের মতে গুণগত মানসম্পন্ন ভালো ফলন পেতে হলে কাঁঠাল চাষের জমিতে যতটুকু সম্ভব জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরণ অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। তবে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ উভয়ই ভালো থাকবে। বাড়িতে গবাদি পশু থাকলে সেখান থেকে গোবর সংগ্রহ করা যাবে। নিজের গবাদি পশু না থাকলে পাড়া-প্রতিবেশি যারা গবাদি পশু পালন করে তাদের কাছ থেকে গোবর সংগ্রহ করা যেতে পারে। এছাড়া ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে আবর্জনা পচা সার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়ির আশে-পাশে গর্ত করে সেখানে আবর্জনা, ঝরা পাতা ইত্যাদি স্তুপ করে রেখে আবর্জনা পচা সার তৈরি করা সম্ভব।

সেচ ও নিষ্কাশন

১. চারা লাগানোর সাথে সাথে চারার গোড়ায় পানি দিতে হবে। সকাল বিকাল দু’বার গাছে পানি দিতে হবে।
২. গাছে সার দেবার পরপর পানি দিতে হবে।
৩. বর্ষার সময় গাছের গোড়ায় যাতে পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৪. খরার সময় দুই সপ্তাহ পর পর পানি সেচ দিতে হবে।

রোগবালাই

১. রাইজোপাস অটোকারপি নামের ছত্রাকের আক্রমণে কাঁঠালের মুচি বা ফল পচা রোগ হয়ে থাকে। এ রোগের আক্রমণে কচি ফলের গায়ে বাদামী রঙ্গের দাগের সৃষ্টি হয় এবং আক্রান্ত ফল শেষ পর্যন্ত ঝরে পড়ে। গাছের পরিত্যক্ত অংশে এ রোগের জীবাণু বেঁচে থাকে এবং তা বাতাসের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে।

২. সাধারণত রাইজোপাস নামক ছত্রাকের আক্রমণে কাঁঠালের স্ত্রী পুষ্পমঞ্জরী ছোট অবস্থাতেই কালো হয়ে ঝরে পড়ে। পুরুষ পুষ্পমঞ্জরী স্বাভাবিকভাবেই কালো হয়ে ঝরে পড়ে।

প্রতিকার

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পোকা দমন না হলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণের অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে।

চাষের সময় পরিচর্যা

১. কাঁঠাল ধরার সময় গাছের গোড়া তালপাতা বা খেজুরের ডাল দিয়ে ঘিরে দিতে হবে।
২. অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে।
৩. দুপুরবেলা গাছের নিচে কিছুটা ছায়া পড়ে। এসময় মাটি কুপিয়ে আলগা করে রাখতে হবে। তাহলে আগাছা কম হবে।
৪. গাছের গোড়ায় আগাছা জমলে তা তুলে ফেলতে হবে।

উৎপাদিত ফলের পরিমাণ

প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় দেড় টন কাঁঠাল পাওয়া যায়।

Only logged in customers who have purchased this product may leave a review.

Reviews

There are no reviews yet.

SUNDARBANFARM

কাঁঠাল গাছ চাষ

কাঁঠাল

৳ 0

%d bloggers like this: