খলিশা মাছ - কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM খলিশা মাছ

খলিশা মাছ

৳ 0

Out of stock

প্রোডাক্ট নং-১২১১৭

Call-01842-186969-096413-186969

নাম : খলিশা মাছ

মিঠা পানির জলাশয় বিশেষ করে পুকুর, নদী, খাল, বিলে এক সময় খলিশা মাছটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত। কিন্তু শস্যক্ষেতে কীটনাশকের যথেচ্ছ প্রয়োগ, অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ, জলাশয় শুকিয়ে মাছ ধরা, কলকারখানার বর্জ্য নিঃসরণ ইত্যাদি কারণে বাসস্থান ও প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হওয়ায় অন্যান্য মাছের মতো এ মাছটির প্রাচুর্যও ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে।

কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো বিলুপ্ত প্রজাতির খলিশা মাছের পোনা উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। ইনস্টিটিউটের নিলফামারী জেলার সৈয়দপুর স্বাদুপানি উপকেন্দ্র থেকে এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খোন্দকার রাশিদুল হাসান ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শওকত আহমেদ এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। এর ফলে খলিশা মাছ চাষের ক্ষেত্রে পোনা পাওয়া সহজ হবে। সহজে এই মাছের চাষাবাদ করা যাবে। সেই সঙ্গে প্রাকৃতিতে প্রজাতিটি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

খলিশা বাংলাদেশের অতি পরিচিত ও দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু একটি মাছ। দেশে মাছটিকে খাবারের মাছ ছাড়াও অ্যাকোরিয়াম মাছ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাহারি মাছ হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘কোলিসা ফাসসিয়াটাস’। যা আমাদের দেশে খৈলশা, খলিশা, খৈইলা নামে পরিচিত। প্রাকৃতিকভাবে এ প্রজাতিটি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও মিয়ানমারে মূলত পাওয়া যায়। মিঠা পানির জলাশয়ে বিশেষ করে পুকুর, নদী, ঝর্ণা, খাল ও বিলে একসময় এ মাছটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত। শস্যক্ষেতে কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ, অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ, জলাশয় শুকিয়ে মাছ ধরা, কলকারখানার বর্জ্য নিঃসরণসহ বিভিন্ন কারণে বাসস্থান ও প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হওয়ায় অন্যান্য মাছের মতো এ মাছের প্রাচুর্যতাও ব্যাপকভাবে কমে যায়।

এ প্রেক্ষিতে প্রজাতিটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে ২০১৬ সাল হতে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রাকৃতিক উৎস্য হতে খলিশা মাছ সংগ্রহ করে গবেষণা শুরু করে। গবেষণায় দেখা যায়, পুকুরে খলিশা মাছের আকার হয় ৮-১০ সে.মি (১৫-২০ গ্রাম)। মাছের বয়স, আকার ও ওজন আনুপাতে  ডিম ধারণক্ষমতা ৫০০০ থেকে ১৩০০০ এবং প্রজননকাল মে থেকে সেপ্টেম্বর। এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে গত ১২ জুলাই মাছটির কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন কলাকৌশল উদ্ভাবনে সফলতা অর্জন করেন।

গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রজনন মৌসুমের পূর্বেই প্রাকৃতিক উৎস্য হতে কিশোর বয়সের মাছ সংগ্রহ করে সৈয়দপুর স্বাদুপানি উপকেন্দ্রের পুকুর ‘ব্রুড’ তৈরির জন্য প্রতিপালন করা হয়। প্রজনন মৌসুমে পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী ও পুরুষ মাছ পুকুর থেকে সংগ্রহ করে হ্যাচারি ট্যাংকে ৫-৬ ঘণ্টা রাখা হয়। পরবর্তীতে হরমোন ইনজেকশান প্রয়োগ করা হয়। হরমোন প্রয়োগের ১৩-১৫ ঘণ্টা পর মা খলিশা মাছ ডিম দেয়। এর ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর ডিম হতে রেণু পোনা উৎপন্ন হয়।

এ প্রসঙ্গে ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, খলিশা মাছের কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে মাছটি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে। তিনি বলেন, ইনস্টিটিউট থেকে ইতোমধ্যে ১৮টি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে পাবদা, গুলশা, টেংরা, মহাশোল অন্যতম। সাম্প্রতিককালে পাবদা, গুলশা, টেংরা জাতীয়  মাছের প্রাপ্যতা বাজারে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এসব মাছের ক্রয়মূল্য সাধারণ ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে আছে। পর্যায়ক্রমে সকল বিলুপ্তপ্রায় মাছকে খাবার টেবিলে ফিরিয়ে আনা হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

Only logged in customers who have purchased this product may leave a review.

Reviews

There are no reviews yet.

SUNDARBANFARM

খলিশা মাছ

খলিশা মাছ

৳ 0

%d bloggers like this: