কলকাসুন্দা - কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM কলকাসুন্দা

কলকাসুন্দা

৳ 0

Out of stock

প্রোডাক্ট নং-১১৯৬৭

Call-01842-186969-096413-186969

নাম : কলকাসুন্দা


বড়রা ছোট হতে চায়। ছোটরা চায় বড় হতে।ছোটদের চোখে থাকে অনাগত ভবিষ্যতের হাতছানি, বুক ভরা স্বপ্ন। আর বড়দের তাড়া করে ফেরে সোনালি শৈশব। বড়দের উদহারণ নাই-বা দিলাম। ছোটরা বড় হওয়ার আগেই বড়দের অভিনয় করতে ভালবাসে।বিশেষত গাঁয়ের ছেলেমেয়েরা। তাই গ্রামীণ অন্য খেলাধুলার পাশাপাশি মেতে ওঠে ঘর গৃহস্থলীর সাজানোর খেলায়। ছেলেরা কখনো দোকানদার, কখনো নাপিত, কখনো চাষার ভূমিকায় অভিনয় করে। আর মেয়েরা মনে হয় সবচেয়ে ভালবাসে গিন্নির চরিত্রে অভিনয় করতে।
বাড়ির যে স্থানাটাতে বড়দের আনাগোনা কম, সেখানেই একদল ছেলেমেয়ে পাঠখড়ির বেড়া মানকচু পাতার ছাওনি দিয়ে দিব্যি তৈরি করে ফেলে ছাল্লাঘর।
যাইহোক, চলে আসি মূল প্রসঙ্গে। আমাদের কালে ঘর-গৃহস্থালীর খেলার অপরিহার্য উপাদান ছিল এই কালকসুন্দা গাছ। আমরা বলতাম কাসকসিন্দা।এর মতো সুন্দর ফুল বাংলার মাঠে জঙ্গলে ক’টা আছে–তা আঙ্গুল ধরে গোণারও বোধহয় দরকার হবে না।

 

কালকসুন্দা (কালকসিন্দা) গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। বাংলার আর সব বুনো উদ্ভিদের মতো বাঁছড়া, ঝোপে-জঙ্গলে, আম-কাঁঠালের বাগানে, বাঁশবনে, ক্ষেতের বেড়ায়, পুকুর পাড়ে, উঁই ঢিবি ওপর জমাট ঝোপে এদের বাস। তবে কালকসুন্দা প্রচার বিমুখ। নিজেকে ঝোপঝাড়ের আড়াল করে রাখতে ভালবাসে। তাই শিয়ালকাঁটা বা ভাঁটফুলের মতো ফাঁকা জায়গায় জন্মায় না বলতে গেলেই চলে। মানুষকেও বোধহয় খুব একটা পছন্দ করে না। তাই লোকালয় থেকে ন্যূনতম দূরত্ব বজায় রেখে বেড়ে ওঠে। কিন্তু প্রকৃতির বোধহয় ব্যাপারটা পছন্দ নয়। তাই এর উচ্চতা আর মোহনীয় ফুলের কারণে খুব বেশিদিন নিজেকে আড়াল করে রাখতে পারে না।

সাধারণত বর্ষা থেকে শরৎকালের মধ্যে কালকসুন্দা (কালকসিন্দা) জন্মায়। শীতের শেষ পর্যন্ত বাড়তে থাকে।

পূর্ণবয়স্ক কালকসুন্দা (কালকসিন্দা) গাছ ৭ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। তবে গড় উচ্চতা ভাঁটফুলের চেয়ে কিছু বেশি। ৫ ফুটের কাছেপিঠে হবে।
কালকসুন্দার (কালকসিন্দা) কাণ্ডের রং গাঢ় সবুজ। বেশ শক্ত। বড় কালকসুন্দা (কালকসিন্দা) গাছের কাণ্ডের বেড় ৫ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে।কাণ্ডের নিচের দিক থেকেই অসংখ্য ডালপালা বের হয়। তাই অল্প দিনের ভেতরেই একটা কালকসুন্দার গাছ একটা ছোটখাট।

 

কালকসুন্দার(কালকসিন্দা) পাতার রং গাঢ় সবুজ। কঁচি পাতা সাদটে সবুজ। যৌগিক। বহপত্রক। একটা বোঁটায় ৫-১০ জোড়া পাতা থাকে। বোঁটার দৈর্ঘ্য ১০-১২ ইঞ্চি। পাতারি প্রতিটা পাতার দৈর্ঘ্য ১.৫-২ ইঞ্চি।

এই ছবিটার জন্য কৃতজ্ঞতা : রেজওয়ান, উদ্ভিদ জগত)

কালকসুন্দার (কালকসিন্দা) ফুল সোনালি-হলুদ রঙের। এর মঞ্জরী ও বোটা হলদেটে সবুজ। মঞ্জরী বহুপুষ্কক। একটা মঞ্জরীতে ৫-১০ টা ফুল থাকতে পারে। ফুলের ব্যাস ১ ইঞ্চি। একটা ফুলে ৫ টা পাঁপড়ি থাকে। সাধারণত ফাগুনের শুরতেই ফুল ফুটতে শুরু করে।

কালকসুন্দার(কালকসিন্দা) ফল দেখতে কিছুটা কলার মতো। তাই আমরা এর ফল দিয়ে মিছিমিছি কাঁচাকলা বানিয়ে রন্না-বাড়া, বিকিকিনি খেলা খেলতাম। তবে কালকসুন্দার ফলের সাথে সবচেয়ে বেশি মিল মুগ ডালের ফলের মতো। তবে লম্বা একটু বড়। কালকসুন্দার ফল ৫ ইঞ্চি পর‌্য লম্বা হতে পারে। এর লম্বালম্বি ভাবে একটা পাতলা আবরণ দিয়ে দুইটা চেম্বারে ভাগ করা থাকে। প্রতিটা চেম্বারে ৩০-৪০ বিঁচি থাকে। বিঁচি দেথতে অনেকটা মুগ ডালের মতো। তবে আকারে কিছুটা বড়। এর বীজ দ্বি-বীজপত্রী।

চৈত্র মাসের শেষের দিকে কালকসুন্দার (কালকসিন্দা) ফল পাকতে থাকে। পাকা ফলের খোসা ও বীজের রঙ বাদামী।


কালকসুন্দা (কালকসিন্দা) এক বর্ষজীবি উদ্ভিদ। ফল পাকার পরে গাছ মারা যায়। কালসুন্দার ইংরেজি নাম Coffee senna. Cassia occidentalis.

 

প্রিয় সচল, এবার কালকসুন্দার(কালকসিন্দা) একটা গুণের কথা বলি। যদিও কোনো গাছগাছড়ার ভেষজ গুণ নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। কারণ উদ্ভিদের ভেষজ গুণের কথা জানিয়ে অনেকে ভাবেন, যাক গুণের কারণেও যদি মানুষ একে রাক্ষা করে! কিন্তু ফল হয় উল্টো, যারা গাছের ভেষজ গুণের কথা আগে জানত না, তারাও তখন ককিরাজ হয়ে যায়। নিজের বাড়িতে লাগানোর কথা ভাবে না। কোথায় কোন জঙ্গলে হয়তো ঘাপটি মেরে পড়ে আছে, তাকে সমূলে উৎপাটন করে ওষুধ বানায়। শুধু তা-ই নয়, আজকের এই সুপারসনিক যুগে গাছের ওষধি গুণের কথা বলা মানে চিকিৎসা বিজ্ঞানকে আলসে গাধার পিঠে তুলে দেয়ার পায়তারা। যাই হোক, যেকথা বলছিলাম। গ্রামে একটা ধারণা প্রচলিত আছে। শরীরে কোথাও বিছুটি লাগলে যে জ্বালা যন্ত্রণা শুরু হয়, তখন সেখানে কালকসুন্দার পাতা ডলে দিলে নাকি মূহুর্তে জ্বালার উপশম হয়। তো আমিও আগে তাই করতাম। একদিন বিছুটি লাগার পর হাতের কাছে কালকসুন্দা মেলেনি। তখন খালি হাতে ডলা-ডলি করলাম। ফল একই। সেদিন থেকে বুঝলাম এখানে মালিশের সিগন্যালের কারণে মস্তিস্কে জ্বালা-যন্ত্রণার সিগন্যালটা কম পৌঁছায়। সেটাকেই কিনা ভাবি কালকসিন্দার কারামতি!

প্রিয় সচল।শুরুতেই একটু মজা করার জন্য বলেছি, কালকসুন্দা (কালকসিন্দা) প্রচার বিমুখ উদ্ভিদ। এখন বলছি, শুধু প্রচার বিমুখই নয়, একই সাথে অভিমানী এবং অভাগী। কারণ এই লেখাটা শুরু করার আগে গুগলে এর ইংরেজি ও বৈজ্ঞানিক নামটা জানার জন্য ‘কালকসুন্দা’, ‘কালকসিন্দা’ দুই নামেই সার্চ দিয়েছিলাম। বাংলা-ইংরেজি উভায় ভাষাতেই। রেজাল্ট–নট ফাউন্ড। তারপর আরেকটা উদ্ভিদের খোঁজ করতে গিয়ে ‘উদ্ভিদ জগত’ নামের একটা সাইটে পেয়ে গেলাম। সেখান থেকেই রেজওয়ানের ছবি দুটো ধার করা। উইকিপিডিয়াতে বাংলায় কোনো নিবন্ধ নেই। তবে ইংরেজি ও বৈজ্ঞানিক নামে সার্চ দিলে অবশ্য হদিশ মিলছে।
আবার দ্বিজেন শর্মার প্রকৃতি সমগ্র (১ ও ২)তেও পেলাম না। নওয়াজেশ আহমেদ আর মোকারম হোসেনের দু্টো বই রয়েছে। তাতেও নেই! স্বল্প সময়ের মধ্যে জীবনানন্দ ও বিভূতিভূষণের কয়েকটা বইও ঘেঁটে ফেললাম। কিন্তু হায়…! আর এই কারণেই কালকসিন্দা(কালকসুন্দা)কে অভিমানী-অভাগী বললাম।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : কালকসুন্দা ও কালকসিন্দা দুই নামই ব্যবহার করলাম। যাতে গুগলে যে নামেই সার্চ দেয়া হোক, রেজাল্ট যেন পাওয়া যায়।


Only logged in customers who have purchased this product may leave a review.

Reviews

There are no reviews yet.

SUNDARBANFARM

কলকাসুন্দা (4)

কলকাসুন্দা

৳ 0

%d bloggers like this: