পিঁয়াজ - কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM পিঁয়াজ

পিঁয়াজ

৳ 0

Out of stock

প্রোডাক্ট নং-১১৭১৯

Call-01842-186969-096413-186969

নাম : পিঁয়াজ

খাদ্য তালিকায় পেঁয়াজ একটি অপরিহার্য উপাদান। পেঁয়াজ একটি কন্দজাতীয় ফসল। পেঁয়াজ সাধারনত মসলা হিসাবে ব্যবহৃত হলেও সবজি ও সালাদ হিসাবেও পেঁয়াজ ব্যবহার প্রচলিত আছে। এর বাল্ব বা গোড়ায় থাকা শল্ককন্দ আমরা খাই। অন্যান্য অনেক মসলার ন্যায় পেঁয়াজ কেবল খাদ্যদ্রব্যকে আকর্ষণীয় ও খাদ্যের স্বাদই বৃদ্ধি করে না, খাদ্যের পুষ্টিগুনও বৃদ্ধি করে এবং এর ঔষধিগুনও অপরিসীম। মসলাজাতীয় ফসলের মধ্যে আমাদের দেশে মরিচের সবচাইতে বেশি চাষ হয় এবং এর পরই পেঁয়াজের স্থান।আসুন জেনে নেই কিভাবে পেঁয়াজ চাষ করতে হবে।

পেঁয়াজের ঔষধিগুণ

ক্ষত প্রতিষেধক হিসাবে, সর্দি-কাশিতে এবং আমাশয় নিরাময়ে পেঁয়াজ ব্যবহৃত হয়।

পেঁয়াজের জাত

বাংলাদেশে এলাকাভেদে বিভিন্ন স্থানীয় জাত যেমন তাহেরপুরী, ফরিদপুর ভাতি, ঝিটকা, কৈলাসনগর উল্লেখযোগ্য। তবে বারি পেঁয়াজ-১ নামে একটি শীতকালীন পেঁয়াজের জাত রয়েছে । এছাড়াও বারি পেঁয়াজ-২ ও বারি পেঁয়াজ-৩ নামে খরিপ মৌসুমের দুটি জাত আছে । বারি পেঁয়াজ-২ ও ৩ গ্রীস্মকালেও চাষের উপযোগী।

প্রয়োজনীয় জলবায়ু ও মাটি

১। উর্বর মাটি এবং সেচ ও নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে হবে।  দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য উত্তম।

২। পেঁয়াজ সাধারণত ঠাণ্ডা জলবায়ুর উপযুক্ত ফসল। যদি পেঁয়াজ চাষ করার সময় তাপমাত্রা বেশি হয় তাহলে উক্ত পেঁয়াজ ঝাঁঝালো হয়।

৩। তবে মনে রাখবেন এঁটেল মাটিতে পেঁয়াজের চাষাবাদ করা যায় না। মাটি অবশ্যই উর্বর হতে হবে।

পেঁয়াজের চাষে জমি তৈরি ও চারা রোপণ

৪-৫ টি গভীর চাষ ও মই দিয়ে আগাছা বেছে, মাটির ঢেলা ভেঙ্গে মাটি ঝুরঝুরা ও সমতল করে চাষের জন্য উত্তমরূপে জমি তৈরি করতে হবে। পেঁয়াজ লাগোর পূর্বে জমির আগাছা ও আবর্জনা পরিষ্কার করে ভালভাবে চাষ দিতেহবে।  ১৫ সে.মি. দূরে দূরে লাইন টেনে লাইনে ১০ সে.মি. দূরত্বে চারা রোপণ করতে হবে। দুইটি বেডের মাঝখানে পানি সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধার জন্য নালার ব্যবস্থা করতে হবে।

পেঁয়াজের রোপণ পদ্ধতি ও সময়

পেঁয়াজ তিনটি পদ্ধতিতে চাষ করা যায়। যেমন:

১) শল্ক কন্দ রোপণ করে। প্রতি হেক্টর জমিতে দেশী জাতের চারা তৈরী করে তা রোপন করতে হলে ৩-৪ কেজি ভাল বীজ প্রয়োজন। অপরদিকে সরাসরি জমিতে বীজ বুনে পেঁয়াজ চাষে হেক্টরপ্রতি ৬-৭ কেজি বীজের প্রয়োজন। আকার ভেদে হেক্টর প্রতি ১২০০-১৫০০ কেজি শল্ক কন্দ দরকার হয়।

২) সরাসরি বীজ বুনে। এক্ষেত্রে ৬-৮ কেজি বীজ দরকার হয়।

৩) বীজতলায় বীজ বুনে চারা উত্তোলন করে তা রোপণ করে। বীজ হতে চারা তৈরি করে রোপণ করলে অধিক ফলন হয় এবং কৃষকগণ অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভবান হন। এ পদ্ধতিতে অক্টোবর মাসে বীজ তলায় বীজ বপন করতে হয়। বপন পদ্ধতি অনুসরণ করলে এ সময়েই কন্দ বা বীজ সরাসরি জমিতে বুনতে হবে।

পেঁয়াজের বীজতলা প্রস্তুত

সাধারণত বীজতলা ১৫-২০ সে.মি. উচু এবং বীজতলা ৩ x ১ মি. আকারের হতে হবে। প্রতি বীজ তলায় ২৫-৩০ গ্রাম হিসাবে বীজ বুনতে হবে। প্রতি হেক্টর জমিতে চারা উৎপাদনের জন্য ৩ x ১ মি. আকারের ১২০-১৩০টি বীজতলার প্রয়োজন হবে। বীজতলার মাটি প্রতি ১ ভাগ ফরমালডিহাইডের সাথে ৫০ ভাগ পানি মিশিয়ে শোধন করে নিলে ভাল হয়।

১। বীজতলায় চারা উঁইপোকা ও পিপঁড়া দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে। এদের আক্রমন প্রতিরোধ করার জন্য ফুরাডন ৫ কেজি বীজতলায় ছিটিয়ে একটি হালকা সেচ দিতে হবে।

২। বীজতলায় চারা ড্যাম্পিং অফ রোগগ্রস্ত হতে পারে। এর থেকে রক্ষা করার জন্য ২৫-৩০ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ কীটনাশক ১০ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে বীজতলার মাটিতে ছিটিয়ে দিতে হবে (বীজ বপনের কিছু পূর্বে)। বপনের বীজ অল্পক্ষণের জন্য ভিজিয়ে এবং সামান্য ঘষে নিতে হবে।

৩। বীজ বপনের আগে ১ ভাগ বীজের সাথে ৯ ভাগ শুকনা ছাই অথবা ঝুরঝুরা মাটি মিশিয়ে নিতে হবে। বীজতলার বীজ সমানভাবে ছিটিয়ে হাত আচরা অথবা হাতের সাহায্যে ঝুরঝুরা মাটি দিয়ে ০.৫-১.০ সেঃমিঃ গভীরে বীজ ঢেকে দিতে হবে।

৪। বীজতলায় মাটিতে রস কম থাকলে হালকা সেচ দিতে হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শীত মৌসুমে সকালে কুয়াশার পানি পাতার উপর হলে সে পানি একটি কাঠি বা দড়ির সাহায্যে মাটিতে ফেলে দিলে চারাগুলো এই পানি ব্যবহার করে পানির চাহিদা পূরন করতে পারে।

বীজ বপন ও চারা রোপণ সময়

১। শীতকালীন জাতগুলোর বীজ মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে বীজতলায় বপন করতে হবে এবং অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ৪০-৫০ দিন বয়সের চারা ক্ষেতে রোপণ করতে হবে।

২। বীজতলা থেকে চারা তোলার আগে ঝাঁঝরি দিয়ে সেখানে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিতে হবে। তাহলে চারা আস্তে করে টেনে তোলা যাবে।

৩।  গ্রীস্মকালীন জাতগুলো যেমন বারি পেঁয়াজ ২ ও ৩ আগাম চাষ করতে হলে মধ্য ফেব্রুয়ারী থেকে মার্চের ১ম সপ্তাহ পর্যন্ত বীজ বপন করতে হবে এবং এপ্রিল মাসে ৪০-৫০ দিন বয়সের চারা মাঠে রোপণ করা যায়।

পেঁয়াজের সার প্রয়োগ

সার মোট পরিমাণ হেক্টর প্রতি

গোবর ১০ টন সব

ইউরিয়া ২৫০ কেজি

টিএসপি ২৭৫ কেজি

এমপি ১৫০ কেজি

জিপসাম ১১০ কেজি

জিংক অক্সাইড ৩.০ কেজি

এসব সার জমি চাষের সময়, পরবর্তী পরিচর্যার সময় পরিমাণ মতো কয়েক কিস্ততে প্রয়োগ করতে হবে। এ সারের পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।

পেঁয়াজের পরিচর্যা

১। পেঁয়াজের জমিতে মাটির প্রয়োজনীয় রস না থাকলে প্রতি ১০-১৫ দিন অন্তর পানি সেচ দিতে হবে। সেচ প্রদানের পর মাটি দৃঢ় হয়ে গেলে তা নিড়ানি দিয়ে ভালভাবে দৃঢ়তা ভেঙ্গে দিয়ে ঝুরঝুরে করে দিতে হবে।

২। তাতে কন্দের বৃদ্ধি ভাল হবে। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। গাছের গোড়া সব সময় ঝুরঝুরে মাটি দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।

৩। পেঁয়াজের কন্দ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফুলের কলি দৃষ্টিগোচর হওয়া মাত্রই তা ভেঙ্গে দিতে হবে।

পেঁয়াজের সেচ ও পানি নিষ্কাশন

১। পেঁয়াজ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। সুতরাং পেঁয়াজের জমিতে পানি নিকাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। যদি মাটি শুষ্ক হয় তাহলে পেঁয়াজের চারা রোপণের পরে একটি সেচ দেয়া খুবই প্রয়োজন।

২। পেঁয়াজের ক্ষেতে সেচ দেয়ার পরপরই জমিতে জো এলে চটা ভেঙে দিতে হবে। বৃষ্টি না হলে জমিতে সেচ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

রোগ ও পোকা দমন

পেঁয়াজে গোড়া পচা

পাতা পূর্ণতা প্রাপ্তির আগেই ডগার দিক থেকে শুকাতে থাকে এবং ঝিমিয়ে পড়ে। শিকড় পচে যায়, গোলাপী বর্ণ ধারন করে এগুলোর আক্রমন যাতে না হয় সেরূপ ব্যবস্থা আগে থেকেই নিতে হবে। প্রয়োজনে কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।

পারপল ব্লচ

আক্রান্ত গাছের পাতা ও পুষ্পদন্ডে কেন্দ্রে গোলাপী রং যুক্ত ছোট ছোট বসে যাওয়া সাদাটে দাগ দেখা যায়। দাগের চারদিকের কিনারা লালচে বলয়যুক্ত। আক্রান্ত পাতা কুঁকড়ে যায়, হলুদ হয়ে শুকিয়ে যায়। গুদামে কন্দের পচন দেখা যায়। এ রোগ দমনের জন্য প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।

পেঁয়াজের কিছু সংখ্যক গাছ ফুল উৎপাদন করে। কলি দেখা মাত্র ফুলের ডাটা ভেঙ্গে দিতে হবে। তবে বীজের জন্য পিয়াজ চাষ করলে ফুলের কলি ভাঙ্গা যাবেনা।

পেঁয়াজ সংগ্রহ

১। পেঁয়াজ উত্তোলনের ১মাস পূর্বে জমিতে সেচ দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে। চারা থেকে কন্দের পরিপক্কতা পর্যন্ত পেঁয়াজ এর মাত্র ৫০-৭০ দিন সময় লাগে এবং বাল্ব থেকে বাল্ব পরিপক্ক হতে ১১০-১২০ দিন সময় লাগে।

২। পেঁয়াজ গাছ পরিপক্ব হলে পাতা ক্রমান্বয়ে হলুদ হয়ে হেলে পড়ে। জমির প্রায় ৭০-৮০% গাছের এ অবস্থা হলে পেঁয়াজ তোলার উপযোগী হয়।

৩। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ প্রতি হেক্টরে ১০ টন থেকে ১৩ টন ফলন দেয়। দেশী জাতের পেঁয়াজ প্রতি হেক্টরে ১২ থেকে ১৬ টন পর্যন্ত ফলন দেয়। এবং শীতকালীন পেঁয়াজ প্রতি হেক্টরে ১৬ থেকে ২০ টন ফলন দেয়।

পেয়াজের ব্যবহার

খাদ্যকে সুস্বাদু ও সুগন্ধময় করে তোলার জন্য পেঁয়াজের জুড়ি নেই। পেঁয়াজ সালাদ হিসেবেও খাওয়া হয়। পেঁয়াজ শুকিয়ে গুড়া করেও ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও পেঁয়াজের ভেতরে অনেক ভেষজ গুণাবলী রয়েছে।

Only logged in customers who have purchased this product may leave a review.

Reviews

There are no reviews yet.

See It Styled On Instagram

    Instagram did not return any images.

SUNDARBAN FARM

%d bloggers like this: