পোস্তদানা - কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM কৃষি তথ্য ও সার্ভিস-SUNDARBAN FARM পোস্তদানা

পোস্তদানা

৳ 0

Out of stock

প্রোডাক্ট নং-১১৭৩২

Call-01842-186969-096413-186969

নাম : পোস্তদানা

পোস্ত হলো এক ধরণের তৈলবীজ যা আফিম থেকে পাওয়া যায়। হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন সভ্যতার লোকজন এই ছোট বৃক্কের মত দেখতে বীজটি চাষ করে আসছে। এই বীজগুলো আস্ত অথবা গুঁড়ো অবস্থায় বিভিন্ন খাদ্যে একটি মশলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি পিষে পোস্তদানার তেল তৈরি করা হয়।

ইতিহাস

অনেক প্রাচীন সভ্যতার চিকিৎসা শাস্ত্রে পোস্তদানার উল্লেখ পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, খ্রিস্টপূর্ব ১৫৫০ সালে রচিত ইজিপ্শিয়ান ইবার্স পেপাইরাস নামের পার্চমেন্টে পোস্তদানাকে প্রশান্তিদায়ক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।[১] ব্রোঞ্জ যুগের ক্রিট দ্বীপের আশেপাশে বসবাসকারী মিনোয়ান সভ্যতার (প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ২৭০০ থেকে ১৪৫০) লোকেরা বীজের জন্য পোস্তদানা চাষ করতো এবং দুধ, আফিম এবং মধুর একটি মিশ্রণ কান্নাকাটি করা বাচ্চাদের শান্ত করতে ব্যবহার করতো। সুমেরিয়ান নামে আরও একটি সভ্যতা পোস্তদানা উৎপাদন করতো বলে জানা যায়।[২] লোকগাথা অনুসারে পোস্তদানা ঘুমের ওষুধ, প্রজনন ক্ষমতা এবং ধন সম্পদ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এমনকি এও জানা যায় যে এটি অদৃশ্য হওয়ার মত জাদুকরী শক্তিও প্রদান করে থাকে।[]

প্রকৃতিগত ইতিহাস

পোস্তদানা; ১ মিমি স্কেল

পোস্তদানা এক মিলিমিটারের কম লম্বা, কিডনির মত দেখতে এবং ছোট ছোট গর্ত বিশিষ্ট বহিরাবরণ যুক্ত হয়ে থাকে।[৪] ৩,৩০০ টি পোস্তদানায় মাত্র এক গ্রাম ওজন হয় এবং ১ থেকে ২ মিলিয়ন পোস্তদানায় এক পাউন্ড হয়ে থাকে।[২] এর প্রাথমিক গন্ধ যৌগ হলো ২-পেন্টেলফিউরান।

পাকা পোস্তদানা ধারণকারী শুকনো পোস্তদানার শুটি

কোনো কোনো এলাকায় পোস্তদানা চাষ করার ক্ষেত্রে আফিম চাষ করা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। বীজের শুটি শুকিয়ে যাওয়ার পর যখন পোস্তদানা পেকে যায় তখন সবচেয়ে উৎকৃষ্টমানের পোস্তদানা সংগ্রহ করা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে, আফিম সংগ্রহ করা হয় যখন বীজের শুটি সবুজ এবং তার ভেতরে প্রচুর কষ থাকে, কিন্তু সবেমাত্র বীজ জন্মাতে শুরু করেছে এমন সময়।

পোস্তর কাছাকাছি অন্য গাছের বীজ খাওয়া হয় না, কিন্তু ফুলের জন্য সেগুলো চাষ করা হয়। যেহেতু এদের উৎপাদন প্রক্রিয়া জটিল নয় এবং জানুয়ারিতে সরাসরি মাটিতে লাগানো যায় তাই, একবর্ষীয় এবং দ্বিবর্ষীয় পোস্তগুলো বীজের মাধ্যমেই বেশি চাষ হয়ে থাকে।[৬] উদাহরণস্বরূপ বলা যায় আকর্ষণীয় কমলা রঙের বুনো ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ত ফুল (এস্কশোলজিয়া ক্যালিফোর্নিয়া) যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম এবং উত্তর পশ্চিম অঞ্চলে জন্মে থাকে।

আফিম, আফিম পাতা অথবা আফিম এবং আফিম পাতা উভয়ই উৎপাদনের পাশাপাশি উপজাত হিসেবে পোস্তদানা চাষ করা যেতে পারে। অন্যদিকে পোস্তদানা চাষ করলে উপজাত হিসেবে আফিম পাতা পাওয়া যায়। বীজের শুটি এবং পাতার কথা বিবেচনা করলে বীজগুলো খুবই কম পরিমাণে মাদক ধারণ করে থাকে।[৮] প্রচুর পরিমাণে বীজ ধুয়ে আফিমের চা পাওয়া যেতে পারে। মাদকের মাত্রা অনুসারে এটি ৩০০ – ৪০০ গ্রামের মত হতে পারে।

শুকনো আফিমের শুটি, পাতা (প্লেটে) এবং বীজ (গামলায়)

দ্যা জয় অফ কুকিং এর মতে “হল্যান্ডের স্লেট-ব্লু রঙের পোস্তের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।”[৯] কোনো কোনো ক্ষেত্রে পোস্তদানার বীজের রঙ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। খাবারের রঙ ঠিক রেখে ঘনত্ব বৃদ্ধির জন্য সাদা পোস্তদানা উপযুক্ত। অন্যান্য বেশীরভাগ খাবারে কালো পোস্তদানা বেশি ব্যবহার করা হয়।

যদিও পোস্তদানা তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল, মাঝে মাঝে তারা লিলি জাতীয় ফুলের বীজের সাথে মিশ্রিত থাকে যা অনেকটাই পোস্তদানার মত দেখতে।

পোস্তদানা একটি উচ্চ পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ মসলা, প্রয়োজনীয় খনিজ, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম সমৃদ্ধ একটি মশলা।

রান্নায় এবং খাবারে ব্যবহার

আস্ত বীজ

আস্ত পোস্তদানা মশলা হিসেবে এবং বিভিন্ন বেক করা খাবারের উপর এবং ভেতর সাজানোর জন্য প্রচুর ব্যবহার করা হয়। উত্তর আমেরিকায় পোস্তদানার মাফিন, কড়কড়ে করে ভাজা পাউরুটির টুকরো, ব্যাগেল (মন্ট্রেলের ব্যাগেলের মত), বিয়েলে এবং স্পঞ্জ কেকের মত কেকের মত খাবারের উপরে এবং ভেতরে এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ইউরোপে বন রুটি এবং নরম সাদা পাউরুটির উপরে সাদা এবং কালো পোস্তদানা ছিটিয়ে দেয়া হয় (উদাহরণস্বরূপঃ কোজোনাক, কালাচ, কোলাক এবং কোল্যাক্স)।

পোলিশ রান্নার পাশাপাশি বিভিন্ন জার্মান পাউরুটি এবং ফলাহারে পোস্তদানা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তিলের মত পোস্তদানাও কখনো কখনো হ্যামবার্গারের রুটিতে ব্যবহার করা হয়। নিউজিল্যান্ডের আঙ্কেল টবেতে তিন রকমের চিকন করে কাটা পোস্তদানা এবং অল্প শক্ত পনীর দিয়ে লে স্নেকনামের একটি খাবার বানানো হয়।

পোস্তদানা পেষা হচ্ছে

পেস্ট্রির ভেতরের পুর মাঝে মাঝে ভালোভাবে গুঁড়া করা পোস্তদানা, মাখন অথবা দুধ এবং চিনির মিশ্রণ দিয়ে তৈরি করা হয়। পোস্তদানার রোল তৈরিতে এর গুঁড়া ও ক্রয়স্যান্ট ব্যবহার করা হয় এবং মাঝে মাঝে সুগন্ধের জন্য লেবু অথবা কমলালেবু, রাম (মদ্য), কিশমিশ যুক্ত ভ্যানিলা, ঘন ক্রিম, দারুচিনি এবং সমান করে কাটা কাজুবাদাম অথবা আখরোট যোগ করা হয়। বেক করা মিষ্টিজাতীয় খাবারের জন্য মাঝে মাঝে চিনির পরিবর্তে এক টেবিল চামচ জ্যাম অথবা অন্য কোনো সিরাপ মিষ্টি দ্রব্যের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়। সবচেয়ে ভাল পুরের জন্য পোস্তদানা খুব ভালোভাবে এবং তাজা অবস্থায় গুঁড়া করতে হয়। কারণ এটি পেস্ট্রির পুরের মিশ্রণ এবং স্বাদের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। কিছু মোন্সট্রিয়েজেল রেসিপিতে পোস্তদানা দুই ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়[১১] অথবা দুধে সিদ্ধ করা হয়। উজবেকিস্তানের একটি পোস্তদানার কেক তৈরির রেসিপিতে পোস্তদানা ফুটন্ত পানিতে সিদ্ধ করে, সারা রাত দুধে ভিজিয়ে রাখতে বলা হয়[১২]

ছেঁচনী অথবা ঘরোয়া বিদ্যুৎ চালিত ব্লেন্ডার অথবা পোস্তদানা চূর্ণ করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি চূর্ণকারক দিয়ে পোস্তদানা গুঁড়ো করা যায়। পোস্তদানা চূর্ণ করার যন্ত্র (মিল) অনেকটা চোরাকাটা পেষণযন্ত্রের মত যাতে একটি ছিদ্র থাকে যা এতটাই সরু হয় যে আস্ত পোস্তদানা এর মধ্য দিয়ে বের হতে পারে না। একটি চোরাকাটা পেষণযন্ত্র অন্য যে কোনো যন্ত্রের চেয়ে বেশি একইরকম এবং কম তৈলাক্ত পেস্ট তৈরি করে।

বাণিজ্যিকভাবে পোস্তদানা ঢাকনাবিশিষ্ট ধাতুপাত্রে পাওয়া যায়। পোস্তদানায় প্রচুর তেল রয়েছে, তাই বাণিজ্যিকভাবে তৈরি পেস্টে সাধারণত চিনি, পানি এবং শুকিয়ে যাওয়া রোধ করতে সয়া সসের মত অম্লজাত দ্রব্য মিশ্রিত থাকে। বাণিজ্যিকভাবে তৈরি পেস্টে পচে যাওয়া রোধ করতে খাদ্য সংরক্ষকও ব্যবহার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক পেস্ট্রি সোলো এবং আমেরিকান অ্যাালমন্ডের মত ব্র্যান্ডের অধীনে বাজারজাত করা হয়। আমেরিকান অ্যাালমন্ডের প্রতি ৩০ গ্রাম পোস্তদানায় রয়েছে ১২০ ক্যালরি, ৪.৫ গ্রাম চর্বি এবং ২ গ্রাম প্রোটিন।

তিলের মত পোস্তদানাও ক্যান্ডি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। সিদ্ধ করা পোস্তদানার সাথে চিনি বা মধু মিশিয়ে এই ক্যান্ডি তৈরি করা হয়। বলকান অঞ্চল, গ্রীস এবং এমনকি অস্ট্রি – হাঙ্গেরিয়ান দেশগুলোর রন্ধনপ্রণালীতে এটি বিশেষভাবে প্রচলিত।

তুরস্কের পোস্তদানার কেক

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রান্নায় পোস্তদানা ব্যবহার করা হয়।

ভারত, ইরান এবং তুরস্কে পোস্তদানা ‘খাস-খাস’ বা ‘হাশাস’ নামে পরিচিত এবং এটি প্রচুর পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাদা পাউরুটির ময়দা মাখানোর সময় এটি মেশানো হয় এবং গর্ভবতী মহিলা এবং নতুন মা দের এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ইউরোপিয়ান রান্নায়

জার্মান মন্সটোলিন

পোস্তদানা (পাপাভের সোম্নিফেরম) মধ্য এবং পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন অংশে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। পরিপক্ব, চিনিমিশ্রিত গুঁড়ো করা পোস্তদানা পাস্তার সাথে খাওয়া হয় অথবা দুধ দিয়ে সিদ্ধ করে বিভিন্ন পেস্ট্রি বা মিষ্টির পুর বা উপরে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়। পরিপক্ব বীজগুলো কারখানায় বা বাড়িতে বের করে নেওয়া হয়। তবে এটি সাধারণত ম্যানুয়াল পোস্তদানার কলেই করা হয়ে থাকে।

অস্ট্রীয়, ক্রোয়েশিয়ান, চেক, জার্মান, হাঙ্গেরিয়ান, লিথুয়েনিয়ান, পোলিশ, রোমানিয়ান, রাশিয়ান, স্লোভাক, তুর্কি এবং ইউক্রেনিয়ান রন্ধনপ্রণালীতে পোস্তদানার প্রচুর ব্যবহার রয়েছে।

সাবেক যুগোস্লাভিয়ার অঞ্চলগুলোতে (বিশেষত মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া এবং বসনিয়া) পোস্তদানার পেস্ট্রি (স্ট্রুডেল, বাকলাভা, পেজগ্লে) এবং অন্যান্য খাবার (পোস্তদানা দিয়ে পাস্তা) তৈরির প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে।

পোলিশ মেকোউয়িক, স্লোভাক মাকোভনিক, পোস্তদানার পুর যুক্ত একটি বাদার রোল

পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া এবং পূর্ব স্লোভাকিয়ায় কুচিয়োসের (বড়দিনের উৎসব) রাতের খাবার উপলক্ষে পোস্তদানা দিয়ে একটি ঐতিহ্যবাহী ফলাহার তৈরি করা হয়ে থাকে। পোস্তদানা গুঁড়ো করে পানি অথবা দুধের সাথে মেশানো হয়; গোল ইস্টের বিস্কুট (লিথুয়ানীয় ভাষায় কুচিউকাই; স্লোভাক ভাষায় অপিকান্স বা বোবাল্কি) পোস্তদানার ‘দুধে’ (পোস্তদানার দুধ) ভিজিয়ে রাখা হয় এবং ঠাণ্ডা অবস্থায় পরিবেশন করা হয়।

মধ্য ইউরোপে পোস্তদানার স্ট্রুডেল খুবই জনপ্রিয়, বিশেষত বড়দিনের সময়। জারমানি, পোল্যান্ড এবং সাবেক অস্ট্র-হাঙ্গেরিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোতে পোস্তদানার পেস্ট্রিকে মউইনকাচম বলা হয় এবং বড়দিনের সময় প্রচুর খাওয়া হয়।[১৩]

 

Only logged in customers who have purchased this product may leave a review.

Reviews

There are no reviews yet.

SUNDARBANFARM

পোস্তদানা

পোস্তদানা

৳ 0

%d bloggers like this: